৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ট্রেনে ঢুকছে বন্যার জল! চিনে ডুবন্ত মেট্রোতে মৃত্যু ১২ জনের

৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ট্রেনে ঢুকছে বন্যার জল! চিনে ডুবন্ত মেট্রোতে মৃত্যু ১২ জনের
৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ট্রেনে ঢুকছে বন্যার জল! চিনে ডুবন্ত মেট্রোতে মৃত্যু ১২ জনের

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এককথায় ভয়ঙ্কর। বদ্ধ মেট্রোতে বুক সুমান জল। ওই অবস্থায় সুড়ঙ্গে আটকে পড়েছে মেট্রো। তার মধ্যে বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যাত্রীরা। মৃত্যুকে একদম সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করলেন বহু মানুষ। এমনই এক ভয়ঙ্কর ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সেন্ট্রাল চিনের হেনান প্রদেশের ঝেংঝউ শহরে। সোমবার থেকে দু’দিনের লাগাতার বৃষ্টির জেরে সেখানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হেনান প্রদেশের ২২ টি শহর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে মারাত্মক পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ভোরে গেছে নদী-নালা রাস্তাঘাট। এর জেরেই মাটির তলায় মেট্রোরও ডুবন্ত অবস্থা। যাত্রীরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি ওঠার আগে, কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁরা কী ভয়ানক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চলেছেন। ওই ভাবেই ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে পড়েন।

হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করলে, এক এক করে মেট্রোর আলো নিভতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা চিৎকার করতে শুরু করেন। প্রথমে চালক জলের গভীরতা বুঝতে পারেননি। তাই ট্রেনটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথেই জলস্তর বাড়তে শুরু করে।

জানা গিয়েছে, চিনে প্রবল বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরেই মেট্রোর মধ্যে বন্দী হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। পরে যাত্রীদের উদ্ধারে নামে সেনাবাহিনী। জানা গিয়েছে, ৭০০ জন যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি আটকে পড়ে সুড়ঙ্গে। ওই অবস্থাতেই আটকে পড়া যাত্রীরা ফোন করে ও নেট মাধ্যমে প্রাণ বাঁচানোর জন্য কাতর অনুরোধ করতে থাকেন। সেই সময়ই ওই ঘটনার ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে।

খবর পেয়েই, ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সেনা। প্রথমে আটকে থাকা যাত্রীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হলেও, তাঁদের উদ্ধার করার যায়নি। দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হেনান প্রদেশে প্রায় ১০ কোটি মানুষের বসবাস। আবহাওয়া দফতর আগেই সেখানে ঝড়-বৃষ্টি হওয়া নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। সোম ও মঙ্গলবার দু’দিন ব্যাপক বৃষ্টি হয় ওই প্রদেশে। নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করে। ইতিমধ্যেই কিছু কিছু জায়গায় নদীর বাঁধ মেরামতের কাজে লেগেছে সেনাবাহিনী। বেশিরভাগ রাস্তায় মানুষ সমান জল জমেছে। অত্যাধিক বৃষ্টির কারণে হেনানের অনেক জায়গায় বিমান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গত ১০০ বছরে এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম ঘটল। এদিকে দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং।