রাজ্যে আরও ভয়াবহ হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি! ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৯৬ জনের

রাজ্যে আরও ভয়াবহ হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি! ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৯৬ জনের
রাজ্যে আরও ভয়াবহ হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি! ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৯৬ জনের / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের করোনা সংক্রমণের গ্রাফ ক্রমশ উর্দ্ধমুখী। দ্রুত গতিতে ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি। ফের দৈনিক মৃত্যুতে রাজ্যে রেকর্ড সৃষ্টি হল।

একদিনে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছুঁইছুঁই। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে, মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের। এই সংখ্যাটা এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক। ক্রমাগত রাজ্যে সংক্রমণের পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা বাড়ায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন রাজ্যের ১৭,৪১১ জন। এই সংক্রামিতের সংখ্যার মধ্যে ৩,৯৩২ জন উত্তর ২৪ পরগণা জেলার। অর্থাৎ দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে এই জেলা প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, এতদিন কলকাতা সংক্রমণের নিরিখে প্রথম স্থানে ছিল। আর এবার সংক্রমণের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কলকাতা। কলকাতাতেও গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রামিত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯২৪ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে সংক্রমিত হয়েছেন ৯৭৩ জন। হাওড়া রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

এদিকে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বাড়ছে সংক্রমণ। এদিকে কলকাতায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। উত্তর ২৪ পরগণায় ২০ জনের। রাজ্যে মৃত্যুর নিরিখে প্রথম স্থানে রয়েছে কলকাতা, দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা।

ধীরে ধীরে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে চলেছে রাজ্য, দাবি বিশেষজ্ঞদের। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুস্থতার হারও কমছে ক্রমাগত। এই মুহূর্তে রাজ্যে সুস্থতার হার ৮৪.৯১ শতাংশ। রাজ্যে এই মুহূর্তে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ৬২৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৩ হাজার ৯৩২ জন। সুস্থতার হার কমতে থাকায় চিন্তায় চিকিৎসকরাও।

উল্লেখ্য, করোনার লাগামছাড়া সংক্রমণ রুখতে রাজ্যজুড়ে আংশিক লকডাউন জারি করা হয়েছে। আজ নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে।

আগামীকাল থেকে রাজ্যে বন্ধ হচ্ছে বহু পরিষেবা। করোনাকালেই রাজ্যে ৮ দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজ্যব্যাপী মিটিং, মিছিল, জনসভা এবং তাতে হওয়া বিপুল মানুষের জমায়েত করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ঝড়ের গতিতে বেড়েছে সংক্রমণ। এই নির্বাচনে অনেক প্রার্থী আক্রান্ত হয়েছেন, কয়েকজনের করোনায় মৃত্যুও হয়েছে।

ভোট শেষ। এবার শুধু ফল প্রকাশের দেরি। তবে, তার আগেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য। সংক্রমণ রুখতে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে যে, আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ থাকবে রাজ্যের সমস্ত রেস্তরাঁ-বার। বন্ধ থাকবে সিনেমাহল, শপিং মল, জিম, স্পা, বিউটি পার্লার, সুইমিং পুল। দোকান-বাজার খোলা থাকবে নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য।

এই নির্দেশিকাকে সামগ্রিক লকডাউন বলা চলে না। আর্থিক ক্ষতি এড়িয়ে, বিধিনিষেধ জারি করেই, যাতে করোনা সংক্রমণে রাশ টানা যায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। এমনটাই নবান্নের মত। এবার একনজরে ভাল করে বিশদে জেনে নেওয়া যাক কী কী বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।

১) সিনেমা হল, রেস্তরাঁ ছাড়াও অনির্দিষ্টকালের জন্য ব বন্ধ করা হল শপিং মল, বার, স্পা, বিউটি পার্লার, সুইমিং পুল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও জিম।

২) সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা পড়াশোনার বিষয়েও এমন কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না, যেখানে প্রচুর মানুষের জমায়েত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

৩) দোকান-বাজার খোলা রাখার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা এবং বিকেল ৩ টে থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বাজার। তবে, এক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের উপর।

৪) ভোটের ফল প্রকাশের দিন গণনা কেন্দ্রে ভিড় বা জমায়েত করা যাবে না, বিজয় মিছিল করা যাবে না বলে কমিশন যে রায় আগেই দিয়েছিল, সেই নির্দেশ বলবৎ রেখেছে রাজ্য।

আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নির্দেশিকা বহাল থাকবে। তবে হোম ডেলিভারি এবং অনলাইন পরিষেবাগুলি স্বাভাবিকভাবেই চলবে বলেও জানানো হয়েছে, নবান্ন থেকে জারি হওয়া আজকের এই নির্দেশিকায়।

নবান্ন থেকে জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় এও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যের সর্বত্র অবিলম্বে এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে হবে। নির্দেশিকা না মানলে, বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুযায়ী, কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়৷ তবে, এরপরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে, আগামীদিনে আরও কড়াকড়ি করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.