ভোররাতে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ অংশ! জোরালো কম্পনে মৃত অন্তত ২০, আহত শতাধিক

ভোররাতে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ অংশ! জোরালো ভূমিকম্পে মৃত অন্তত ২০, আহত শতাধিক
ভোররাতে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ অংশ! জোরালো ভূমিকম্পে মৃত অন্তত ২০, আহত শতাধিক

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোরের আলো ফোটার আগেই জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ পাকিস্তানের বিস্তির্ন অঞ্চল। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৭। ওই সময় ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় বিপদ অনুভব করে বাড়ি থেকে বেরোতে পারেননি সাধারণ মানুষ। তাই ঘুমের মধ্যেই অনেকে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েন। সরকারি সূত্রে খবর, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গুরুতর আহত প্রায় ২০০ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।

যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হারনাই এলাকার পরিকাঠামো অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় উদ্ধারকাজে দেরি হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে তিনটে নাগাদ জোরাল কম্পন অনুভূত হয় দক্ষিণ পাকিস্তানের বালোচিস্তানের অন্তগর্ত হারনাই শহর। স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল গোটা শহর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়িগুলির ছাদ-দেওয়াল ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান বহু মানুষ। পরে কেউ কেউ সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও, তাঁদের চোট গুরুতর। আবার জানা গিয়েছে, কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেডে় দেওয়া হলেও‌, এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকে।

অন্যদিকে, এদিন বালোচিস্তানের রাজধানী কোয়াত্তা শহরেও কম্পন অনুভূত হয়। পাকিস্তানের সেসমোলজি বিভাগ সূত্রে খবর, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬। উৎসস্থল ছিল হারনাই এলাকার ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৪ কিলোমিটার গভীরে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ প্রদেশ মন্ত্রী মির জিয়া উল্লাহ লাঙ্গাউ জানান, ‘আমরা ভূমিকম্পের খবর পেয়েছি, অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ উদ্ধারকার্য চলছে ৷’ সরকারি আধিকারিক সূত্রে খবর, মৃত ২০ জনের তালিকায় একজন মহিলা ও ছয় শিশুও রয়েছে।

উল্লেখ্য, হারনাই শহরটি দুর্গম পার্বত্য এলাকা। পাশাপাশি একেবারেই অনুন্নত। রাস্তাঘাট, বিদ্যুতের পরিকাঠামোও যথাযথ নয়। জোরাল কম্পনের জেরে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে এই এলাকার। গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। হারনাইয়ের সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায়, হাসপাতালে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইন এবং ব্যাটারিচালিত টর্চ জ্বালিয়ে চলছে চিকিৎসা। এদিকে মোবাইলের টাওয়ার ভেঙে পড়ায়, এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রাস্তাঘাট অনুন্নত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজও।