আপনি কি জানেন? ২৫ বছর আগে, ভারতে প্রথম মোবাইল কল করেছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু

আপনি কি জানেন? ২৫ বছর আগে, ভারতে প্রথম মোবাইল কল করেছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু
আপনি কি জানেন? ২৫ বছর আগে, ভারতে প্রথম মোবাইল কল করেছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ সময়টা ৩১ জুলাই ১৯৯৫, হিসাব করে দেখতে গেলে ঘটনার প্রেক্ষাপট ২৫ বছর আগের। এই দিনেই ভারতে একটা বিপ্লব ঘটেছিল। কি বিপ্লব জানেন? কলকাতায় রাইটার্স বিল্ডিং এবং নয়াদিল্লির সঞ্চার ভবনের মধ্যে ফোনে কথা হয়। ভাবছেন এ আর এমন কি? কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে আসল বিষয়। সেদিন রাইটার্স এবং সঞ্চার ভবনের মধ্যে যে ফোনকল হয়েছিল, তা ছিল ভারতের প্রথম মোবাইল আলাপচারিতা। আর এই আলাপচারিতার মাধ্যমেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই মোবাইল কলই পাল্টে দেয়, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার চেহারা।

সেদিন ফোনের এক প্রান্তে ছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু আর অপর প্রান্তে ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী সুখরাম। সেদিন এই দুই ব্যক্তিত্বের মধ্যে কথা খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও, এই দুই ব্যক্তি দেশের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। সেদিন নোকিয়ার ফোন ব্যবহার করে কথা হয়েছিল। কথা হয়েছিল অল্পসময়ের জন্যই। সেই দিনের পর আজকে চিত্রটায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আজকের সমাজ এই মোবাইল ছাড়া যেন ‘মণিহারা ফনি’।

সেদিনের সেই বিপ্লবে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুর অনেক অবদান রয়েছে। ১৯৯৪ সালে মোদী টেলস্ত্রার চেয়ারম্যান বি কে মোদীকে রাইটার্স বিল্ডিং- এ আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া বৈঠকের শেষে দেশের প্রথম মোবাইল নেটওয়ার্কের জন্য কলকাতাকে বেছে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুরোধ রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন বি কে মোদী। এর একবছর পরই ৩১ জুলাইয়ের দিন, দেশে প্রথম মোবাইল কলের সুচনা হয়। মোদীর মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবার সাহায্যে ফোনটি হয়েছিল। মোবাইল কলটির মুল্য ছিল মিনিটে ৮ টাকার বেশি।

এবার জেনে নেওয়া যাক, মোদী টেলস্ত্রার সংস্থা সম্পর্কে সংক্ষেপে। অস্ট্রেলিয়ান সংস্থা টেলস্ত্রা এবং ভারতের মোদী গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল এই মোদী টেলস্ত্রা। ভারতে যার চেয়ারম্যান ছিলেন বি কে মোদী। প্রাথমিক পর্বে ওয়ারলেস যোগাযোগ পরিষেবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রথম ৮ টি সংস্থার মধ্যে অন্যতম ছিল এই সংস্থা। চারটি মেট্রো শহরের জন্য ২ টি করে লাইসেন্স ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

সেদিনের মোবাইল কথোপকথনের পরে ২৫ বছর কেটে গেছে। সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত হয়েছে মোবাইল পরিষেবা। নতুন নতুন পরিবর্তন এসেছে। আজ মোবাইল ছাড়া এক মুহূর্তও ভাবতে পারেন না মানুষ। প্রথম দিকে সমাজের উচ্চবিত্তের হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল মোবাইল ফোন, এরপর ২০০০ সাল থেকে উচ্চবিত্তদের পাশাপাশি মোবাইল ছড়িয়ে যায় সমাজের অন্যান্য শ্রেণির মধ্যেও ধীরে ধীরে। মোবাইলের দাম, সেট, ফোনের ফিচার, ফোনের খরচ সবেতেই আসে পরিবর্তন। এই টেলিকম শিল্পকে সাধারণের নাগালের মধ্যে আনতে প্রত্যেক মুহূর্তে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা চলতেই থাকে। সেদিনের সেই বিপ্লবের দরুন আজ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের নাগালের মধ্যে মোবাইল। এমনকি খেটে খওয়া মানুষেরও।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতে মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যাটাও তাক লাগানোর মতো। ১০০ কোটির বেশি। বিশ্বে মোবাইল ব্যবহারের নিরিখে ভারতের স্থান ২ নম্বরে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.