নিজের স্কুলেই হত্যালীলা চালাল কিশোর পড়ুয়া! মৃত কমপক্ষে ৩, আহত অনেকেই

নিজের স্কুলেই হত্যালীলা চালাল কিশোর পড়ুয়া! মৃত কমপক্ষে ৩, আহত অনেকেই
নিজের স্কুলেই হত্যালীলা চালাল কিশোর পড়ুয়া! মৃত কমপক্ষে ৩, আহত অনেকেই / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বন্দুকবাজের হামলায় আবারও রক্তাক্ত মার্কিনমুলুক। মঙ্গলবার মিশিগানের একটি স্কুলে আচমকাই গুলি চালাতে শুরু করে ওই স্কুলেরই এক পড়ুয়া। এই ঘটনার জেরে কমপক্ষে ৩ পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। পাশাপাশি আরও অনেকেই আহত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, হামলার ঘটনাটি ঘটেছে ডেট্রয়েটের উত্তরে অক্সফোর্ড শহরের ‘অক্সফোর্ড হাই স্কুলে’। মঙ্গলবারআচমকাই সহপাঠীদের উপর হামলা চালায় বছর ১৫ র এক পড়ুয়া। মিশিগানের হাইস্কুলে ঘটা ওই হামলায় তিনজন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। পাশপাশি এক শিক্ষক-সহ আরও অনেকেই আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে, এই হামলার পরেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে ওই অভিযুক্ত পড়ুয়া। মার্কিন পুলিশ ওই পড়ুয়ার কাছ থেকে একটি সেমি-অটোম্যাটিক বন্দুক এবং কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেছে।

এই ঘটনার পর, ওকল্যান্ড কাউন্টির আন্ডার শেরিফ মাইক ম্যাকাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে, তদন্তকারীরা এই হত্যালীলার কারণ নিয়ে এখনও ধন্দে রয়েছেন। এদিকে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। এই অঞ্চলে ২২ হাজার লোকের বাস। ডেট্রয়েট শহর থেকে উত্তরে ৩০ মাইল দূরে অবস্থিত এই জনপদ। ম্যাকাবে আরও জানিয়েছেন, ১৭০০ পড়ুয়ার এই স্কুলে হত্যালীলা হতে পারে বলে আগাম সঙ্কেত নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। মঙ্গলবারের এই হামলার আগে পুলিশ বিষয়টি তত গুরুত্ব দেয়নি। ঘটনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৯১১ নম্বরে ফোন যায় স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে। দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আততায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা নাগাদ ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। এই গুলি চালনার ঘটনায় একজন ১৬ বছরের কিশোর, ১৪ ও ১৭ বছরের দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বাকি ছজনের অবস্থা স্থিতিশীল।

এই হামলার পর, মৃতদের উদ্দেশ্যে শোকপ্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। প্রিয়জনকে হারিয়ে অকল্পনীয় বেদনার মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।’

উল্লেখ্য, আমেরিকায় গুলি চালনার ঘটনা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অস্ত্র আইন আনা নিয়ে বিতর্কের মাঝে একের পর এক হামলায় প্রশ্ন উঠছে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে।