লরির এক ধাক্কাতেই শূন্যে উড়ল জিপ! মাটিতে পড়তেই মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল তরতাজা আটটি প্রাণ

লরির এক ধাক্কাতেই শূন্যে উড়ল জিপ! মাটিতে পড়তেই মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল তরতাজা আটটি প্রাণ
লরির এক ধাক্কাতেই শূন্যে উড়ল জিপ! মাটিতে পড়তেই মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল তরতাজা আটটি প্রাণ / ছবি সৌজন্যে- Twitter @bengalurulive_

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কাজের সন্ধানে অন্য জায়গায় যাচ্ছিলেন তাঁরা। সেখানেই নতুন সংসার পাততে সঙ্গে নিয়েছিলেন স্ত্রী ও সন্তানদেরও। কিন্তু নতুন শুরুর আগেই সব শেষ হয়ে গেল। বাড়ি ফিরল শুধুমাত্র সাদা চাদরে মোড়া দেহগুলি। দ্রুত গতি আর রেষারেষি কেড়ে নিল তরতাজা আটটি প্রাণ। রবিবার জিপ ও লরির ভয়াবহ সংঘর্ষে মৃত্যু হল কমপক্ষে আটজনের। গুরুতর আহত আরও ৬ জন।

রবিবার কর্ণাটকের চিন্তামণি তালুকে একটি যাত্রী বোঝাই জিপ ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মারা যান কমপক্ষে আটজন। জানা গিয়েছে, মৃতরা সকলেই দিনমজুর ছিলেন। কাজের খোঁজে তাঁরা অন্ধ্রপ্রদেশ যাচ্ছিলেন, সঙ্গে তাঁদের পরিবারও ছিল। জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে দুটি শিশু এবং দুইজন মহিলা ছিলেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই জিপটিতে মোট ১৭ জন যাত্রী ছিলেন। শ্রীনিবাসপুর তালুক থেকে চিন্তামণি তালুকের দিকে যাওয়ার পথে, আচমকা তাঁরা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। মারিয়ানকানাহালি পৌঁছানোর পরই সেখানে সংঘর্ষ হয়। জানা গিয়েছে যে, উল্টো দিক থেকে দ্রুতগতিতে ওই লরিটি আসতে দেখেই গাড়িটি রাস্তার ধারে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন জিপের চালক। কিন্তু জিপে অতিরিক্ত পরিমাণ যাত্রী থাকায় এবং গাড়িটির গতিও বেশি থাকায় তা নিয়ন্ত্রণ হারায়। সোজা গিয়ে ধাক্কা মারে বেঙ্গালুরুগামী লরিটির সামনে। পুলিশ জানিয়েছে যে, ওই লরিটি অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মালপত্র নিয়ে ফিরছিল। দুর্ঘটনার অভিযোগে ওই লরির চালককে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি হাওয়ায় উড়ে যায় ও পাক খেতে খেতে নীচে পড়ে। ওই জিপটি মাটিতে পড়তেই থেতলে যান ছয় যাত্রী। স্থানীয়রাই প্রথমে দুর্ঘটনাটি দেখতে পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান এবং পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়রাই প্রথমে গাড়িটি তালগোল পাকিয়ে যাওয়ায়, অনেক কষ্টে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। তাঁদের প্রত্যেককে চিন্তামণি ও কোলার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে একজন ও হাসপাতালে পৌঁছনোর পর আরও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই জানা গিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিত্যদিনই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে বাস ও জিপগুলি। ওভারলোডিং ও গাড়ির মধ্যে রেষারেষি আটকানোর জন্য ওই জায়গায় আরটিও অফিসার ও পুলিশের পাহারায় থাকার কথা থাকলেও, কোনও সময়ই তাঁদের পাহারায় দেখা যায় না।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই, ঘটনাস্থলে যান চিন্তামণির বিধায়ক জেকে কৃষ্ণা রেড্ডি। সেখানে গিয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এবং আরটিও অফিসারদেরই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী ওই গাড়িতে কমপক্ষে ১৭ জন যাত্রী ছিল। ছোট গাড়িতে এত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিল কে, পুলিশকে এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার সময়েও কোনও আরটিও অফিসার উপস্থিত ছিলেন না।’