ছেলে সেনাবাহিনীর অফিসার, পেটের দায়ে রকশা চালান বৃদ্ধ বাবা, ভাইরাল ভিডিও

482
Image source: Google

বিশেষ প্রতিবেদনঃ ছেলে সেনাবাহিনীর অফিসার, তবে পেটের দায়ে রিক্সা চালাতে হয় বাবাকে। বছর আশির ওই বৃদ্ধার কথায়, “নিজের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে লালন-পালন করেছি। মাথার ঘাম মাটিতে ফেলে সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে সুশিক্ষিত করে সেনাবাহিনীর চাকরি করে দিয়েছি। কিন্তু আজ সেই সন্তান আমার কোন খবর নেয়না।“ কাঁপা কাঁপা কন্ঠস্বরে এই কথাগুলি বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন ওই বৃদ্ধ বাবা।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর ছেলে-মেয়েদের অবহেলায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই বৃদ্ধ। ছেলে-মেদের জন্য করা সব পরিশ্রম আজ যেন তাঁর বৃথা মনে হয়। তবুও ছেলে-মেয়ের ভালো কামনা করেন তিনি। নেই কোন অভিযোগ।

গত ২২ সেপ্টেম্বর তথা রবিবার প্রায় বিকেলের দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় এসএ পরিবহন বাইপাইল শাখার সামনে এক বৃদ্ধকে রিকশা নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে দুই যুবক এগিয়ে এসে তাঁর কাছে জানতে চাই তিনি তাদের গন্তব্য পর্যন্ত যাবেন কিনা। ওই বৃদ্ধ রাজি হন। ২০ টাকার বিনিময়ে তাঁরা রিকশতে চাপেন নিজেদের গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।

কিন্তু যে বয়সে নিজে একা একা চলাফেরা করায় মুশকিল হয় সেখানে দুজন আরোহীকে রিকশাতে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া যে ওই বৃদ্ধর জন্য বেশ কঠিন কাজ তা বুঝতে পেরে ২ মিনিট পরেই রিকশা থেকে নেমে পড়েন ওই দুই যুবক। তারপর রিকশা থেকে নেমেই ওই বৃদ্ধার কাছে তাঁরা জানতে চান কেন এত বৃদ্ধ বয়সে তিনি রিকশা চালাচ্ছেন? এরপরেই সন্তানদের অবহেলার কথা জানান ওই বৃদ্ধা। সমস্ত ঘটনাটি ক্যামেরবন্দি করেন ওই দুই যুবকেরই একজন। মামুন দেওয়ান নামের ওই যুবক ভিডিও বানিয়ে তা ফেসবুকেও শেয়ার করেন। সাথে সাথে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি।

ভিডিওতে ওই বৃদ্ধকে বলতে শোনা যায়, কয়েক বছর আগেই তাঁর স্ত্রী বার্ধক্যজনিত কারনে মারা যান। তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছে। তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে সেনাবাহিনীর অফিসা। মেজো ছেলে টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলিকট্রনিক্স জিনিসের মেকানিক এবং ছোট ছেলে রাজমিস্ত্রী।

এরপরেই বৃদ্ধ জানান, বর ছেলে অনেক কষ্ট করে উচশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। বর্তমানে বড় ছেলে আলতাফ হোসেন সেনাবাহিনীর অফিসার। ২৬ বছর আগে ছেলেকে চাকরি করে দিয়েছি। টাকাও পাঠিয়েছি। বর্তিমানে ঢাকায় নিজের বাড়ি করেছে ছেলে। কিন্তু আমার কোন খবর রাখে না।

ওই বৃদ্ধ আক্ষেপ করে জানান, বৃদ্ধ হওয়ায় বেশিরভাগ লোকই তাঁর রিকশায় চাপতে চাননা ফলে কোন দিন ১০০ তো কোন দিন ১৫০ টাকা তাঁর আয় হয়। তা দিয়ে বাড়ি ভাড়া মিটিয়ে তাঁর খাবার কোন কোন দিন জোটেনা।

আরও পড়ুনঃ  লিঙ্গ বৈষম্যকে তুড়ি মেরে এবার বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধি তালিকায় নাম লেখালেন এই বৃহন্নলা

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.