বন্ধুর সঙ্গে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাওয়াই কাল হল! বর্ধমানে খুন ব্যবসায়ী

বন্ধুর সঙ্গে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাওয়াই কাল হল! বর্ধমানে খুন ব্যবসায়ী
বন্ধুর সঙ্গে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাওয়াই কাল হল! বর্ধমানে খুন ব্যবসায়ী / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দুর্গাপুজো কাটতেই গড়িয়াহাটে খুন হন শিল্পকর্তা সুবীর চাকি এবং তাঁর গাড়ির চালক রবীন মণ্ডল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মূল অভিজয়ক্ত ছাড়াও আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী খুন হলেন।

বন্ধুর সঙ্গে বর্ধমানে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। অভিযোগ গুলি করে খুন করা হয়েছে ওই ব্যবসায়ীকে। কিন্তু কে বা কারা এবং কেন এই খুন করল, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ীর গাড়ির চালক, রাঁধুনি এবং তাঁর এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এদের জেরা করলেই এই খুনের ঘটনার পিছনে কারা হয়েছে এবং খুনের কারণ জানা যাবে।

নিহত ব্যবসায়ীর নাম সব্যসাচী মণ্ডল। বছর ৪৪-এর সব্যসাচী মণ্ডল হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দা। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তিনি। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধের সময় রাজবীর সিং নামে এক ব্যবসায়ী বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমানের রায়নার দরিয়াপুরের গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সব্যসাচী মণ্ডলের গাড়ির চালক এবং রাঁধুনি। গ্রামের বাড়ির ছাদেই শুরু হয় পিকনিক।

এর মাঝেই হঠাৎই সব্যসাচীর গাড়ির চালক ছাদে দৌড়ে আসেন। তিনি জানান যে, বেশ কয়েকজন তাঁকে ডাকছেন। এরপর ছাঁদ থেকে নিচে নেমে আসেন সব্যসাচী। অভিযোগ এরপরই গুলির আওয়াজ শোনা যায়। গুলির শব্দ পেয়েই ছাঁদ থেকে সাততাড়াতাড়ি সকলে নিচে নেমে আসেন। বাকিরা দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছেন সব্যসাচী। যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তিনি।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে মৃত বলে জানান। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় রায়না থানার পুলিশ।

ঘটনার দিন সব্যসাচী মণ্ডলের সঙ্গে দরিয়াপুরে ছিলেন তাঁর বন্ধু রাজবীর সিং। রাজবীরের বক্তব্য, ‘আমার বন্ধু সব্যসাচী। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমরা ছাদে রান্না করছিলাম। চিকেন রান্না হচ্ছিল। হঠাৎই ওর গাড়ির যিনি চালক, তিনি এসে বলেন একজন অফিসার আপনাকে ডাকছে। সব্যসাচী নীচে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই আওয়াজ শুনতে পাই, রাজবীর রাজবীর করে চিৎকার করছে। শুনেই আমি ছুটে যাই। গিয়ে দেখি গুলিও চালাচ্ছে, ছুরি দিয়েও কোপাচ্ছে। আমি ওদের ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিই। আমি একজনের হাতে থাকা ছুরি চেপে ধরতেই ওরাও পাল্টা টান মারে। আমার হাতও সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত হয়ে যায়। কেটে যায়।’

এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম খাঁন জানিয়েছেন, ‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দরিয়াপুরের বাড়িতে রাত সাড়ে ৮ টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। ব্যবসায়ীর দেহের একাধিক জায়গায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে বোঝা যাবে কী জাতীয় জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল।’ তদন্ত এখন একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

এখনও পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ীর গাড়িচালক, রাঁধুনী এবং বন্ধু রাজবীর সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবার ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, সুপারি কিলার দিয়ে খুন করা হয়েছে ওই ব্যবসায়ীকে। ব্যবসা সংক্রান্ত রেষারেষি বা ব্যক্তিগত কোনও আক্রোশ থেকে এই খুন, না এর পিছনে সম্পূর্ণ অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। পুলিশ কাউকেই সন্দেহের তালিকার বাইরে রাখছে না।