অসাধ্য সাধন কলকাতার ডাক্তারদের, করোনা আক্রান্ত মৃতপ্রায় তরুণীর ফুসফুসকে ECMO সাপোর্টে জীবিত

অসাধ্য সাধন কলকাতার ডাক্তারদের, করোনা আক্রান্ত মৃতপ্রায় তরুণীর ফুসফুসকে ECMO সাপোর্টে জীবিত

মিরাকল ঘটিয়ে অসাধ্য সাধন করলেন কলকাতার চিকিৎসকরা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল ফুসফুস। প্রায় অকেজো ফুসফুস কাজ করার ক্ষমতা হারালেই নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু এখানেই অসাধ্য সাধন করে দেখালেন কলকাতার একটি বেসরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকরা। চিকিৎসা মহলে করোনার ব্যাপারে এই ঘটনাকে নজিরহীন বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

জানা গিয়েছে কালিঘাট এলাকার এক তরুণী গত ১৭ মে তীব্র শ্বাসকষ্ট আর জ্বর নিয়ে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় ওই তরুণীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ। ওই তরুণীর ফুসফুসও প্রায় কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। বাঁচার আশা প্রায় ছিলই না। ফলে তড়িঘড়ি ঐ তরুণকে ভেন্টিলেশনে পাঠান ডাক্তাররা। কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি না ঘটায় শেষ পর্যন্ত তাকে ECMO সাপোর্ট দেন ডাক্তাররা। প্রায় ৩০০ ঘণ্টা ধরে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলা অকেজো ফুসফুসকে কৃত্তিমভাবে সাপোর্ট দিক ECMO সিস্টেম। ঐ যন্ত্রের মাধ্যমে তিনশো ঘন্টা ধরে কৃত্তিম উপায়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।

ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের বক্তব্য ১৮মে ওই তরুণীকে ECMO সাপোর্ট দেওয়ার ৩০০ ঘন্টা পর ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে দেখা যায়। এরপরই প্রায় ১০দিন পর তারা ওই সাপোর্ট সিস্টেম সরিয়ে নেন। এরপর ওই তরুণীকে ধাপে ধাপে প্রথমে একমো সিস্টেম থেকে বের করে ভেটিলেশনে, পরে সেখান থেকে আইসিইউ এবং শেষে এইচডিতে স্থানান্তরিত করা হয়। সোমবারই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ওই তরুণী। করোনা রোগীকে একমো দিয়ে বাঁচানোর ঘটনা এই রাজ্যে প্রথম বলে দাবী ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের। ওই রোগীর দেখভালের দায়িত্ব ছিলেন ডাক্তার মহুয়া ভট্টাচার্য। ওই যন্ত্রটি দিয়ে সাপোর্টের সমস্ত ব্যবস্থা করেছিলে ডাক্তার সোহম মজুমদার।

ওই হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শাশ্বতী সিনহা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “ওই মেয়েটিকে আমরা কোনোভাবে বাঁচাতে পারব বলে ভাবিনি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম মাত্র। সেই লক্ষ্যেই দলগতভাবে আমরা কাজ করেছিলাম। শেষমেশ আমরা সাফল্য পেয়েছি। ওকে যখন ১৭মে এমার্জেন্সিতে আনা হয়, তখন করোনার প্রভাবে ওর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা প্রায় শেষের মুখে। ভেন্টিলেশন সাপোর্টেও ওর শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করা যাচ্ছিল না। যে পদ্ধতিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ানো হয় অর্থাৎ উপুর করে শুইয়ে অক্সিজেন বাড়ানোর চেষ্টা করি আমরা কিছু সফল না হওয়ায় শেষমেশ আমরা ওকে একমো সাপোর্ট দিই ১২ দিন ধরে”।

আরও পড়ুনঃ  তমলুকে এক নার্সিংহোমে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল চোর

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.