শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২

ভাঙল সব 'নিয়ম'! বিয়েতে উল্টো স্রোত, নজির গড়লেন বর্ধমানের নবদম্পতি

০৮:৫২ পিএম, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

ভাঙল সব 'নিয়ম'! বিয়েতে উল্টো স্রোত, নজির গড়লেন বর্ধমানের নবদম্পতি

আমাদের সমাজের কোনায় কোনায় নানা প্রাচীন নিয়ম রীতিনীতির ছড়াছড়ি। সেইসব যুক্তিহীন নিয়মকে ভাঙতে পারে একমাত্র মানসিকতার বদল, আর উপযুক্ত শিক্ষা। বর্তমানে নানা স্থানে নানা অনুষ্ঠানে নিয়মের ক্ষেত্রে নতুনত্ব চোখে পড়ে। মানুষের মানসিকতার আসতে আসতে পরিবর্তন ঘটছে ফলে সমাজেও তার ছাপ পড়ছে নানা ক্ষেত্রে।

এমনই এক অন্যরকম বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নজির তৈরি করলেন বর্ধমানের এক দম্পতি। বিবাহের ক্ষেত্রে চলতি সব রীতি রেওয়াজ ভেঙে নতুনভাবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বর্ধমানের শ্রেয়া ঘোষাল ও মানবেন্দ্র সিং রাঠোর।

বর্তমানে নেটদুনিয়ায় আলোচনার পাশাপাশি প্রচুর প্রশংসাও পেয়েছেন ওই দম্পতি। চাকরিসূত্রে শ্রেয়া থাকেন ব্যাঙ্গালোরে। তিনি উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা মানবেন্দ্র সিং রাঠোরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন।

পুরুষতন্ত্রের সমস্ত রীতিনীতি ভেঙে নজির গড়লেন তাঁরা। প্রচলিত সমস্ত নিয়মের পরোয়া না করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় মহিলা পুরোহিত দ্বারা। সেক্ষেত্রে সংস্কৃত মন্ত্রের জায়গায় উচ্চারিত হয়েছিল বাংলা ও ইংরেজীতে মন্ত্র।

মহিলা পুরোহিত রোহিণী ধর্মপালের মতে, 'নারী ও পুরুষ সমান। বর্তমানে এই সাম্য রক্ষার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। এটা ভালো লক্ষ্মণ।' এছাড়াও বিয়েতে সানাই এর পরিবর্তে বেজেছিল পছন্দসই সব গান। বিয়ে থেকে বাদ গেছিল একাধিক প্রাচীন নিয়ম যেমন, কন্যা সম্প্রদান, পান পাতায় মুখ ঢাকা, বরকে প্রদক্ষিণ, এসব কিছুই ছিলনা বিয়ের অনুষ্ঠানে।

পরিবর্তে একে অপরকে হাসি মুখে নতুন জীবনে স্বাগত জানিয়েছে ওই দম্পতি। বৃহত্তর ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমঅধিকারের বার্তা প্রেরণের জন্যই তাঁদের এমন উদ্যোগ বলে জানান তাঁরা।

সময় পাল্টেছে, সর্বোপরি আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন খুব জরুরী। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকেই। নারী পুরুষ যে একে অপরের থেকে কোনো অংশেই কম যাননা একথা সর্বসমক্ষে প্রমাণ করে দিতে হবে।