চূড়ান্ত অমানবিক! করোনা রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসকে মাটিতে ফেলে মার, ভাইরাল ভিডিও

অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু, জুনিয়র চিকিৎসকের উপর অকথ্য অত্যাচার রোগীর পরিজনের, গ্রেফতার ২৪
অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু, জুনিয়র চিকিৎসকের উপর অকথ্য অত্যাচার রোগীর পরিজনের, গ্রেফতার ২৪

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। এই মারণ ভাইরাসের কবল থেকে মানুষের প্রাণ রক্ষার জন্য দিনরাত এক করে লড়াই করে চলেছেন চিকিৎসক, নার্স থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা। নিজেদের প্রাণের ঝুকি নিয়ে। এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবা করতে করতে দেশে বহু চিকিৎসক এবং নার্সের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।

অথচ এর পরেও, রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে চিকিৎসক নিগ্রহের অভিযোগ উঠল। এমনই একটি ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি অসমের হোজাইয়ের। এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন চিকিৎসকমহল।

জানা গিয়েছে যে, নিগৃহীত চিকিৎসকের নাম সিয়ুজ কুমার সেনাপতি। তিনি উদালি মডেল হাসপাতালে কর্তব্যরত। ওই হাসপাতালে মঙ্গলবার পিপালি পুখুরি গ্রামের বাসিন্দা গিয়াজউদ্দিন নামে এক করোনা রোগী ভর্তি হন। ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন যে, দুপুর দেড়টা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দেন। এরপর দুপুর ২ টো নাগাদ রোগীর পরিজনদের গিয়াজউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলা জানান। এরপর রোগীর কাছে গিয়ে দেখেন, তার মৃত্যু হয়েছে।

যথারীতি রোগীর পরিজনদের তার মৃত্যুসংবাদ দেওয়া হয়। সেই খবর পাওয়া মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসকের দাবি, অক্সিজেনের অভাবেই মৃত্যু হয়েছে করোনা রোগীর। যদিও তা মানতে চায়নি নিহতের পরিবারের লোকেরা। চিকিৎসকের অভিযোগ রোগীর পরিবারের ১০-১২ জন হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। এরপর হামলার আশঙ্কায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে চিকিৎসক সেনাপতিকে একটি ঘরে তালাবন্দি করে দেওয়া হয়। কিন্তু রোগীর পরিবারের সদস্যরা সেই ঘরের তালা ভেঙে, সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এদের কারও হাতে ছিল লাঠি, কারও হাতে ঝাঁটা আবার কারও হাতে স্টিলের বাসনপত্র। বেশ কিছু সময় ধরে চিকিৎসককে মাটিতে ফেলে অমানবিকভাবে মারধর কড়া হয়। এরপর তারা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়।

এইঘতনায় আক্রান্ত ওই চিকিতস্কের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। অন্য একটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে তাঁকে। এদিকে ইতিমধ্যেই এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে চিকিৎসকমহল। যারা, তাঁদের জীবনের ঝুকি আছে জেনেও মানুষের জীবন রক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন, তাঁদের নিরাপত্তা কোথাও? এই কি তাঁদের প্রাপ্য? এই প্রশ্নই এখন তুলছেন প্রত্যেক চিকিৎসক। এদিকে এই ঘটনার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা।