লটারির নেশাতেই রাতারাতি ভাগ্য বদল! এক কোটি টাকা জিতে পুলিশের কাছে ছুটলেন যুবক

লটারির নেশাতেই রাতারাতি ভাগ্য বদল! এক কোটি টাকা জিতে পুলিশের কাছে ছুটলেন যুবক
লটারির নেশাতেই রাতারাতি ভাগ্য বদল! এক কোটি টাকা জিতে পুলিশের কাছে ছুটলেন যুবক

পেশায় তিনি দিনমজুর৷ দিন মজুরির কাজ করেই কষ্টেসৃষ্টে সংসার চলত তাঁর। তবে নেশা ছিল লটারির টিকিট কাটা। আর সেই নেশার কারণেই রাতারাতি ভাগ্য বদল ওই ব্যক্তির। লটারিতে এক কোটি টাকা জিতলেন তিনি। কিন্তু তারপরেই রাতের ঘুম উড়ল তাঁর। দিন মজুর ওই ব্যক্তিকে ছুটতে হল পুলিশের কাছে।

মেদিনীপুর শহর লাগোয়া শিরোমণি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা শিশির নন্দী৷ শুক্রবার রাত নাগাদ তিনি জানতে পারেন তাঁর কাটা লটারিতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে এক কোটি টাকা পান তিনি। কিন্তু তারপরই মাথায় চেপে বসে দুশ্চিন্তা৷ লটারি পাওয়ার খবর রটে গেলে যদি বাড়িতে হানা দেয় চোর-ডাকাত! এই চিন্তায় প্রথমেই স্থানীয় পঞ্চায়েতের কর্মাধক্ষ্যের কাছে পুরো বিষয়ট জানান তিনি। তারপরই রাত ১২টা নাগাদ কোতোয়ালি থানায় হাজির হন শিশির। এরপর পুলিশি নিরাপত্তা পেয়ে শনিবার দুপুরেই ব্যাঙ্কে গিয়ে সব কাগজপত্র এবং লটারির টিকিট জমা দিয়ে আসেন তিনি। তারপরেই নিশ্চিন্ত!

কোতোয়ালি থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার ওই ব্যক্তি যে রাতেই লটারিতে এক কোটি টাকা জিতেছেন তা খবর পাওয়া গিয়েছিল। এরপর তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, শিরোমনি পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ গোপাল দে জানান, “একজন দরিদ্র মানুষ লটারিতে কোটি টাকার পুরস্কার পেয়েছেন, এটা খুব ভালো লাগার বিষয়। কিন্তু উনি চোর ডাকাতের ভয় পাচ্ছিলেন। তাই রাতেই তাঁকে পুলিশের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।”

ঘটনা প্রসঙ্গে লটারি জেতা শিশির জানিয়েছেন, গত ৭ বছর ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন তিনি। বাড়িতে রয়েছেন বৃ্দ্ধ বাবা, স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে। মাঝে মধ্যেই টাকা জেতার আশায় লটারির টিকিট কেনেন ওই ব্যক্তি৷ দু’এক বার পুরস্কারও পেয়েছেন। তবে কোনও বার সেভাবে শিঁকে ছেড়েনি। এবার সত্যি হল! যদিও সে খবর পেয়ে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি শিশির। পরে দোকানে গিয়ে খোঁজ করতেই জানতে পারেন নিজের ভাগ্য বদলের কথা৷ কপাল জোরে পাওয়া লটারি জিতে শিশির জানান, “পরের জমিতে দিন মজুরি করি। এবার বিঘা চারেক জমি কিনব। আর একটা পাকা বাড়ি করব। নিজের মতো করে বাঁচব। ছেলে মেয়ে দুটোর লেখাপড়ার বন্দোবস্তও করে রাখতে হবে।”