সারাদিন, সারারাতের চেষ্টায় কলুটোলা স্ট্রিটের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে! এখনও গোটা বাড়িতে রয়েছে পকেট ফায়ার

সারাদিন, সারারাতের চেষ্টায় কলুটোলা স্ট্রিটের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে! এখনও গোটা বাড়িতে রয়েছে পকেট ফায়ার
সারাদিন, সারারাতের চেষ্টায় কলুটোলা স্ট্রিটের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে! এখনও গোটা বাড়িতে রয়েছে পকেট ফায়ার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সারাদিন এবং সারারাতের অক্লান্ত পরিশ্রম আর চেষ্টার জোরে অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এল কলুটোলা স্ট্রিটের ভয়াবহ আগুন। তবে, এখনও গোটা বাড়িতে রয়েছে পকেট ফায়ার। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও সেখানে ১০ টা ইঞ্জিন কাজ করছে। এদিকে, বিধ্বংসী আগুনে ভেঙে পড়েছে বাড়ির পিছনের একাংশ। তাই বাড়ির সামনের অংশেরও যাতে ক্ষতি না হয়, তার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে কাজ চলছে।

কলুটোলা স্ট্রিটের আগুনে কোনও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও, আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকল কর্মী আহত হয়েছেন। দমকলকর্মীরা জানাচ্ছেন যে, চারতলা বাড়িটিতে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় এবং এলাকা ঘিঞ্জি হওয়ার কারণে আগুন নেভাতে এতো দীর্ঘ সময় লাগল। এদিকে, আগুন নেভাতে এতো সময় লাগায় মঙ্গলবার সকালে এলাকায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার বেলা ১১ টা নাগাদ আচমকাই বড়বাজারের কলুটোলা স্ট্রিটের চারতলা বাড়ির দোতলা থেকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। উল্লেখ্য, বড়বাজার সংলগ্ন এই এলাকা অত্যন্ত ঘিঞ্জি। বাড়িগুলির মধ্যে তেমন ফাঁক প্রায় নেই বললেই চলে। আর বেশিরভাগ বাড়ি ব্যবহৃত হয় গুদাম হিসেবে। এই বাড়িটিও তেমনই গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা হত বলে জানা গিয়েছে। দমকল কর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনওভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে গিয়েছে। আর এলাকা যেহেতু ঘিঞ্জি, তাই আগুন সহজেই ছড়িয়ে পড়েছে।

পাশের কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় এবং এলাকা ঘিঞ্জি হওয়ায় রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা হয় দমকল কর্মীদের। আগুন নেভাতে গিয়ে কয়েকজন দমকল কর্মী আহত হন। গতকালই ঘটনাস্থলে গিয়ে, গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। পরে তিনিও ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে ফোন করে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

সারারাত ধরে দমকল কর্মী, পুলিশকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দারা হাতে হাত লাগিয়ে একসঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ করেছেন। গভীর রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, পকেট ফায়ার থাকায় শুরু হয় ঠাণ্ডা করার কাজ, চলছে কুলিং প্রসেস।

পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়িটি তালা দেওয়া ছিল। দুর্ঘটনার সময়েও চাবি দেননি বাড়ির মালিক। দমকল কর্মীরা চাবি হাতে না পাওয়ায়, তাঁরা ভিতরে ঢুকে জলের ব্যবস্থা করতে পারেননি বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, এদিন সকালে এই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এলাকার ২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।