ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না কংগ্রেস! কিন্তু কেন? কী বলছে শীর্ষ নেতৃত্ব

ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না কংগ্রেস! কিন্তু কেন? কী বলছে শীর্ষ নেতৃত্ব
ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না কংগ্রেস! কিন্তু কেন? কী বলছে শীর্ষ নেতৃত্ব

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী দিচ্ছে না কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিন মুর্শিদাবাদে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানালেন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী৷ কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের নির্দেশেই ভবানীপুরে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন অধীর৷

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে চাইছে না কংগ্রেস। তাই ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। মঙ্গলবার এমনটাই জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস প্রধান অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তবে, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে অখুশি বামেরা।

ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে শুরু থেকেই দ্বিধাবিভক্ত ছিল রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব। যদিও দলের একাংশ এই কেন্দ্রে প্রার্থী দেওয়ার পক্ষেই ছিল। তবে আরেক পক্ষ রাজি ছিল না। এই প্রসঙ্গে আজ অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘এরকম পরিস্থিতিতে প্রদেশ সভাপতি হিসেবে আমার মনে হয়েছিল কংগ্রেস নেতাদের ওইসব মত দিল্লিতে পাঠানো। আমার উদ্দেশ্য ছিল শীর্ষ নেতৃত্বই এনিয়ে সিদ্ধান্ত নিক। অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপনির্বাচনে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না কংগ্রেস।’

এদিন তিনি আরও বলেন যে, ‘জাতীয় কংগ্রেসের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে আমরা কোনওভাবেই বিজেপিকে সুবিধে করে দিতে রাজি নই। এভাবে বিজেপিকে সাহায্য করে দিতে আমরা চাই না।’ কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচার করবে না, তাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি৷

তবে, শুধু ভবানীপুরই নয়, সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরেও নির্বাচনে লড়ছে না কংগ্রেস৷ কারণ জঙ্গিপুরে বামেদের তরফে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল৷ আর সামশেরগঞ্জে যাঁকে কংগ্রেস প্রার্থী করতে চেয়েছিল, তিনিই এখন প্রার্থী হতে অরাজি হয়েছেন। কাজেই নতুন করে সেখানে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ নেই৷ ফলে কংগ্রেস না লড়ায় ওই দুই কেন্দ্রেও তৃণমূলের কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই অধীর চৌধুরী জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ভবানীপুরে উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার বিপক্ষে৷ এই মুহূর্তে সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী জোট গঠনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেই চলছে কংগ্রেস৷ এমনকি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতার নিন্দা করে টুইটও করেছে কংগ্রেস৷

আগেই দিল্লিতে গিয়ে সনিয়া এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই পরিস্থিতিতে ভবানীপুরে প্রার্থী না দিয়ে বিজেপি বিরোধী জোটের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করল কংগ্রেস৷ এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যে কোথাও জিততে পারেনি কংগ্রেস৷ ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়ে কংগ্রেস দুর্দান্ত কোনও ফল করবে, এমন প্রত্যাশা কংগ্রেসের তাবড় তাবড় নেতারাও করছেন না৷ তার থেকে ভবানীপুরে প্রার্থী না দিয়ে, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার পক্ষেই কংগ্রেস। বরং তাতে ২০২৪-এর প্রস্তুতিতে সুফলই মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।