শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য সুখবর! ২০ মাস পর গুরুনানকের জন্মজয়ন্তীর আগে খুলছে কর্তারপুর করিডর

শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য সুখবর! ২০ মাস পর গুরুনানকের জন্মজয়ন্তীর আগে খুলছে কর্তারপুর করিডর
শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য সুখবর! ২০ মাস পর গুরুনানকের জন্মজয়ন্তীর আগে খুলছে কর্তারপুর করিডর

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ একটা সময়ের ব্যবধানে খুশির খবর শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য। ২০ মাস পর, খুলছে কর্তারপুর করিডর। গুরুনানকের জন্মদিনের আগেই এই রাস্তা খুলে দেওয়া হচ্ছে দর্শনার্থীদের জন্য। আগামী ১৯ নভেম্বর শিখদের পবিত্র উৎসব গুরুপুরবের আগেই এই কর্তারপুর সাহিব করিডর খোলার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আর সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই জানিয়েছেন টুইট করে। তাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুসারে আজ থেকেই খুলে যাচ্ছে এই বিখ্যাত শিখ তীর্থক্ষেত্রের করিডর। ফলে বুধবার থেকে ভারত থেকে শিখরা পাকিস্তানে যেতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবে বহু শিখ তীর্থযাত্রী। এই বিষয়ে মঙ্গলবার টুইট করেন অমিত শাহ।

টুইটে অমিত শাহ জানান, ‘একটি বড় সিদ্ধান্ত, যার ফলে বিরাট সংখ্যক শিখ তীর্থযাত্রীরা উপকৃত হবেন। আগামিকাল, ১৭ নভেম্বর থেকে ফের খুলে দেওয়া হবে কর্তারপুর সাহিব করিডর। শ্রী গুরুনানক দেবজি এবং শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার ।’ অন্য একটি টুইটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘গোটা দেশ শ্রী গুরুনানক দেবজির প্রকাশ উৎসব পালনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আমি নিশ্চিত মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্থ গোটা দেশে খুশি হবে।’

জানা গিয়েছে, কোভিডবিধি মেনে তবেই তীর্থে যেতে পারবেন শিখরা। মানতে হবে শারীরিক দুরত্ববিধিও। পাশাপাশি করোনা টিকার দুটি ডোজ এবং ৭২ ঘণ্টা আগে আরটি-পিসিআর (RTPCR) নেগেটিভ টেস্ট রিপোর্ট বাধ্যতামূলক থাকছে। এরপরেও যদি কারোর মধ্য়ে করোনার উপসর্গ দেখা যায়, তবে তাঁকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে কর্তারপুর সাহিব করিডর খোলা হয়েছিল। কোভিডের কারণে ২০২০ সালের মার্চ মাসে বন্ধ করে দেওয়া হয় কর্তারপুর করিডর। এর মধ্যে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের তরফে ভারতের কাছে কর্তারপুর সাহিব করিডর খোলার আবেদন করা হয়। অন্যদিকে দু’দিন আগে পাঞ্জাবের বিজেপি নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  সঙ্গে দেখা করে কর্তারপুর সাহিব করিডর খোলার আবেদন করেন। এই মর্মে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। অবশেষে সেই আবেদনে মান্যতা দিল কেন্দ্রের মোদী সরকার। খুলে গেল কর্তারপুর করিডর।

মনে করা হয় যে, গুরুনানক দেব গুরুদ্বার দরবার সাহিবেই শেষ নিশ্বাঃস ত্যাগ করেছিলেন। বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থিত এই গুরুদ্বারকে শিখ ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত পবিত্র স্থান বলেই মনে করেন। পঞ্জাবের গুরদাসপুরের ডেরা বাবা নানক স্মৃতি সমাধি থেকে সরাসরি পাকিস্তানের গুরুদ্বার দরবার সাহিবকে সংযুক্ত করে এই করিডর। উল্লেখ্য, ৪ কিমি রাস্তা পার করে ভারত থেকে পাকিস্তানের কর্তারপুরে যান শিখ তীর্থযাত্রীরা। এর জন্য ভারতীয় শিখদের কোনওরকম ভিসা লাগে না।