‘সেই মদনকে আর পাবেন না’, দলীয় বৈঠকে দিদির কাছে বকুনি খেয়ে ফের ফেসবুক লাইভ মদন মিত্রের!

'সেই মদনকে আর পাবেন না', দলীয় বৈঠকে দিদির কাছে বকুনি খেয়ে ফের ফেসবুক লাইভ মদন মিত্রের!
'সেই মদনকে আর পাবেন না', দলীয় বৈঠকে দিদির কাছে বকুনি খেয়ে ফের ফেসবুক লাইভ মদন মিত্রের!

এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর আজই প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকে বসেছিল রাজ্যের শাসক শিবির। সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের কর্মীদের কী ভূমিকা থাকা উচিত, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। দলের নেতাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ইচ্ছে পোস্ট করা থেকে সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিনের বৈঠকে ফেসবুক লাইভ করা নিয়ে মদন মিত্রকেও একপ্রকার সাবধান করা হয়েছে। দিদির ধমক খেয়ে তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের লাইভে আসেন ‘অভিমানী’ মদন মিত্র। কী জানালেন তিনি?

প্রায় ২২ মিনিটের ওই লাইভে মদন মিত্র শুরু করেন গান দিয়ে। তিনি বলেন আমাকে অনেকে জিজ্ঞেস করছে, “দল থেকে আপনি কী পেলেন? আপনি কি খুশি না অখুশি?” এরই উত্তরে তিনি শুরু করেন গান, “এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার…আজি প্রাতে সূর্য ওঠা সফল হল কার…”। এরপর একে একে তৃণমূলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে জায়গা পাওয়া নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান মদন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সায়নী ঘোষ, রাজ চক্রবর্তী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেককেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “সকলকে শুভেচ্ছা জানালাম। ফুল আর মিষ্টি দেব। যে যেখানে যেতে বলবে চলে যাব।”

'সেই মদনকে আর পাবেন না', দলীয় বৈঠকে দিদির কাছে বকুনি খেয়ে ফের ফেসবুক লাইভ মদন মিত্রের!
‘সেই মদনকে আর পাবেন না’, দলীয় বৈঠকে দিদির কাছে বকুনি খেয়ে ফের ফেসবুক লাইভ মদন মিত্রের!

এরপরই ফেসবুক লাইভ প্রসঙ্গে কথা বলা শুরু করেন মদন মিত্র। তিনি জানান, “অনেকেই আমায় জিজ্ঞেস করছে, বৈঠকে কি হল? দিদি কি আমায় বকল? আমি তাদের বলেছি, দিদির কাছে মদন মিত্রের ফেসবুকের থেকে ফেসভ্যালুর দাম বেশি। এই মুখে কোথাও কোনও দাগ নেই। কোনও কাটা, ছেঁড়া নেই।” সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, “আমাকে চন্দ্রিমাদি বলেছে, বক্সীও বলেছে। কত লোকে ফেসবুকে আমার কথা শোনে। তুমি নিজের মান একটু উন্নীত কর। তাই এবার থেকে সেই মদন মিত্রকে আর পাবেন না, যাঁকে কথায় কথায় পেতেন।”

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে মদন মিত্রের লাইভ অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেখানে রাজনীতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগতস্তরের নানা কথা আলোচনা করেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা। তবে, সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে কামারহাটিরবিধায়কের আচরণ ভালোভাবে নেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল রাতে কামারহাটির প্রশাসকদের নিয়ে মদন মিত্র একটি ফেসবুক লাইভ করেন। তা পরে ডিলিটও করে দেন। তবে তা নিয়েই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়৷ দলীয় সূত্রে খবর, এরপরই নাকি তৃণমূল ভবনে ডেকে পাঠানো হয় মদন মিত্রকে। সেখানেই ফেসবুক লাইভ নিয়ে সংযত হতে বলা হয় নেতাকে। এই ঘটনার পরই ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে আসেন মদন মিত্র৷ জানান কাল থেকে আর তাঁকে ফেসবুকে ঘন ঘন পাওয়া যাবে না। যেমনটা আগে পাওয়া যেত।