‘প্লিজ নকশাল কাকু, বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে দাও!’, নিঁখোজ বাবার জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ল ৫ বছরের ছোট্ট মেয়ে!

'প্লিজ নকশাল কাকু, বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে দাও!', নিঁখোজ বাবার জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ল ৫ বছরের ছোট্ট মেয়ে! / Image Source- Screengrab from Video Tweeted By @TejinderSsodhi
'প্লিজ নকশাল কাকু, বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে দাও!', নিঁখোজ বাবার জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ল ৫ বছরের ছোট্ট মেয়ে! / Image Source- Screengrab from Video Tweeted By @TejinderSsodhi

“পাপার পরী পাপাকে খুব মিস করছে৷ আমি আমার বাবাকে খুব ভালবাসি৷ প্লিজ নকশাল আঙ্কেল, আমার বাবাকে বাড়ি পাঠিয়ে দাও!” ক্যামেরার সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলছে ৫ বছরের ‘পাপার পরী’ ছোট্ট মেয়েটি। সে জানে, তার বাবাকে নকশালরাই আটকে রেখেছে। তাই সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কান্না ভেজা কন্ঠে এটুকু কাতর অনুরোধই সে রেখেছে। তা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের বাকিরাও। রাঘবি নামে পাঁচ বছরের ওই শিশুটির আবেদনে মন ভিজে গিয়েছে সংবাদ কর্মীদেরও।

গত শনিবার, ছত্তীসগড়ের বিজাপুরে মাওবাদীরা হামলা করে৷ হামলার ফলে নিহত হন ২৩ জন সিআরপিএফ জওয়ান। তারপর থেকেই খোঁজ নেই জম্মুর বাসিন্দা সিআরপিএফ জওয়ান রাকেশ্বর সিং মানহসের। মনে করা হচ্ছে মাওবাদীরাই তাঁকে অপহরণ করেছে৷ এই দুঃসংবাদ পাওয়ার রাকেশ্বরের চিন্তায় ঘুম উড়েছে বাড়ির প্রত্যেকের৷ সংবাদ মাধ্যমের কাছে রাঘবির সঙ্গে জওয়ানের ৭ বছর বয়সি ভাইপোও কাকুর খোঁজ জানতে চেয়েছে৷ যদিও সেই খোঁজ আর কে দেবে! আগামী ১৫ এপ্রিলই পারিবারিক একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়িতে আসার কথা ছিল রাকেশ্বরের। কিন্তু তা আর হল কই!

রাকেশ্বরের স্ত্রী মিনু জানিয়েছেন, হামলার খবর জানতে পেরেই দুশ্চিন্তায় বার বার ওকে ফোন করছিলেন তিনি৷ কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। এরপর তাঁর এক সহকর্মীকে ফোন করেন মিনু৷ তিনি জানান, অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন ওই জওয়ান৷ মিনু আরও জানান, স্থানীয় সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি সোমবার বিকেলে বিজাপুর থেকে তাঁকে ফোন করেন৷ ওই ব্যক্তি তাঁকে বলে, তাঁর স্বামীকে মাওবাদীরা অপহরণ করেছে। তাই তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মাওবাদীদের কাছে মিনু যেন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনুরোধ করেন৷ তা শুনে ভিডিও রেকর্ড করে ওই ব্যক্তিকে পাঠিয়েও দেন মিনু৷

যদিও সম্পূর্ণ বিষয়টির পূর্ণ তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি এও জানিয়েছেন, তাঁদের মেয়ে এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারছে না ঠিক কী হয়েছে৷ কিন্তু এত মানুষের কান্না দেখে সেও কেঁদে চলেছে। বাবাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যেককে অনুরোধও করছে সে। তবে মিনু একপ্রকার আশাবাদী যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর স্বামীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবেন৷ নিখোঁজ জওয়ানের ৭৫ বছর বয়সি মা-ও বেশ আশাবাদী যে সরকার মাওবাদীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর ছেলেকে নিরাপদে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে।

ইতিমধ্যেই, নিখোঁজ জওয়ানদের নিরাপদে বাড়ি ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সিআরপিএফ-এর তরফে৷ কেন্দ্রীয় সরকারও সবরকম চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হয়েছে। জম্মুতে নিখোঁজ জওয়ানের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সিআরপিএফ-এর সদর দফতরের কম্যান্ড্যান্ট পি সি গুপ্তা জানিয়েছেন, “আমি এখানে এসে নিখোঁজ জওয়ানের পরিবারকে আশ্বস্ত করেছি যে আমরা এবং কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের পাশেই রয়েছি৷ আমরা আমাদের সাহসী জওয়ানদের এই অভিযানে হারিয়েছি৷ তবে আমরা এই পরিবারকে আশ্বস্ত করছি যে তাঁরা তাঁদের ছেলেকে ফিরে পাবে৷” সেই প্রচেষ্টাই এখনও জারি রেখেছেন তাঁরা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.