‘কতদিন পর বাবুকে দেখতে পেলাম’! বিধানসভা থেকে ফিরেই সন্তান কোলে ছবি পোস্ট আবেগপ্রবণ চন্দনা বাউরির

'কতদিন পর বাবুকে দেখতে পেলাম'! বিধানসভা থেকে ফিরেই সন্তান কোলে ছবি পোস্ট আবেগপ্রবণ চন্দনা বাউরির
'কতদিন পর বাবুকে দেখতে পেলাম'! বিধানসভা থেকে ফিরেই সন্তান কোলে ছবি পোস্ট আবেগপ্রবণ চন্দনা বাউরির

চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ‘দরিদ্রতম’ প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছিল শালতোড়ার চন্দনা বাউরির নাম। প্রচারের দিন থেকেই সবার নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁর প্রভাব পড়েছিল ভোট বাক্সেও। বিরোধীদের হারিয়ে ভোটে জিতেছিলেন ‘খেটে খাওয়া গরীব’দের প্রতিনিধি চন্দনা৷ তাঁর লড়াই এবং তাঁর অফুরান জেদের কাহিনী মন জয় করেছিল সবার। সেই চন্দনা শালতোড়া ছেড়ে এতদিন ছিলেন কলকাতায়। গত দেড় সপ্তাহ জুড়ে নিয়মমাফিক বিধানসভা অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন তিনি। তারপর বাড়ি ফেরার পালা। আর বাড়ি ফিরেই নিজের ছেলেকে কোলে পেয়ে আবেগে ভেসে গেলেন বিজেপির বিধায়ক। সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করে সে কথা জানানও দিলেন।

বিধানসভার অধিবেশনের জন্য স্বামীর সঙ্গে কলকাতায় এসেছিলেন চন্দনা। কিন্তু বাড়িতে রেখে গেছিলেন একরত্তি কোলের সন্তানকে। তাই কলকাতায় রাজনীতির পাঠ নিলেও মন পড়ে ছিল শালতোড়ায় নিজের বাড়িতেই। তাই কলকাতা থেকে বাড়ি ফিরেই নিজের সন্তানকে জড়িয়ে ধরলেন চন্দনা। সন্তান-কোলে পেলেন এক নিশ্চিন্ত শান্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসিমুখের সে ছবিই শেয়ার করে বিজেপি বিধায়ক ইংরেজি অক্ষরে লিখেছেন ‘কিউট চিলড্রেন’।

আসলে এতদিন পর ‘বাবু’কে কাছে পেয়ে যথারীতি খুব খুশি চন্দনা। সেই আনন্দ ভাগ করে নিয়েই তিনি জানান, “কতদিন পরে এসে আমি আমার বাবুকে দেখতে পেলাম। খুব ভাল লাগছে। অনেক আদর করেছি। আমার ওকে ছেড়ে যেতে কোথাও ইচ্ছাই করে না।” প্রসঙ্গত, এর আগেও কলকাতায় থাকাকালীন নিজের ছেলের ছবি পোস্ট করে ‘মিস ইউ’ লিখেছিলেন তিনি। বোঝাই যাচ্ছিল, ছেলে কাছে না থাকায় মনকষ্টে ভুগছেন তিনি। বাবুর কথা বারবার মনে পড়ছে তাঁর। এবার তাই বাড়ি ফিরে ছেলেকে আদরে ভরাতে ভরাতে স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন শালতোড়ার বিধায়ক।

তবে এসবের মাঝেও নিজের লক্ষ্যে কিন্তু অটল গ্রাম বাংলার এই গৃহবধূ। তাঁর কাঁধে এখন বিরাট দায়িত্ব। আগামী পাঁচ বছর এলাকার মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ চন্দনা। শালতোড়ার রাস্তা-ঘাট তৈরির কাজেই প্রথম নজর তাঁর৷ এছাড়াও এলাকার মানুষের জন্য যত দ্রুত সম্ভব জলের সু-বন্দোবস্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে চন্দনার। তিনি বিজেপির ‘দরীদ্রতম’ বিধায়ক হলেও এলাকার কাজের সঙ্গে কোনওরকম আপস করতে তিনি নারাজ। কারণ তাঁর নিজের সন্তানের স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি এলাকার সকল মানুষের আশাপূরণের দায়িত্ব যে এখন চন্দনারই হাতে।