চার পাতার চিঠিতে কেন্দ্রের শো-কজের জবাব দিলেন আলাপন! কী লিখলেন উত্তরে?

চার পাতার চিঠিতে কেন্দ্রের শো-কজের জবাব দিলেন আলাপন! কী লিখলেন উত্তরে?
চার পাতার চিঠিতে কেন্দ্রের শো-কজের জবাব দিলেন আলাপন! কী লিখলেন উত্তরে?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কেন্দ্রের শো-কজের জবাব দিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা ছিল, তিনদিনের মধ্যে এই শো-কজের জবাব দিতে হবে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিবকে। সেইমতো প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলেন এই দক্ষ আইএএস। বৃহস্পতিবার সন্ধেতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা কেন্দ্রের পাঠানো শো-কজের জবাব পাঠালেন ভায়া ইমেল।

ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে, বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী কলাইকুণ্ডায় যে বৈঠক করেন, তাতে কেন উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যের মুখ্যসচিব? এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দেন প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, এদিন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি কেন্দ্রকে একই বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বর্তমান মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীও।

চার পাতার চিঠিতে একাধিক বিষয়ের উল্লেখ আছে। যেহেতু কেন্দ্রের শো-কজ পাঠানো হয়েছিল সেখানে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যসচিব দুজনকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল। সেজন্যেই দুজনের চিঠির বয়ান এক। নবান্ন সূত্রে এমনটাই খবর।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন এবং বর্তমান মুখ্যসচিবের চিঠির বিষয়বস্তু এক হওয়ার পাশাপাশি চিঠিতে এও বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত না থাকার যে কারণ দর্শানো হচ্ছে, তা মোটেও সঠিক নয়। কারণ কলাইকুণ্ডায় ইয়াস পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর্যালোচনা বৈঠকে তাঁরা হাজিরা দিয়েছিলেন।

এদিকে নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রকে পাঠানো জবাবি চিঠিতে, সদ্য প্রাক্তন মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, সাগরে ২০ মিনিট তাঁদের কপ্টার অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই জন্য প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে পৌঁছতে দেরি হয়। সূত্রের খবর, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে উপস্থিত না থাকার কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশই তিনি বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি এও জানিয়েছেন উত্তরে যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দু’জনের হয়ে বৈঠক ছাড়ার অনুমতি চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। কারণ, দিঘায় পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল তাঁদের। এরপরই তাঁরা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। উনি অনুমতি দেওয়ার পর, দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে যান। সূত্রের খবর, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এও জানিয়েছেন যে, আগে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, হিঙ্গলগঞ্জ, সাগর ও দিঘায় বৈঠকে থাকতে হবে। তাই তাঁর নির্দেশ মতো দিঘায় গিয়েছিলেন। সদ্য প্রাক্তন মুখ্যসচিব তাঁর উত্তরে বলেছেন যে, যেহেতু মুখ্যমন্ত্রীই রাজ্যের সর্বময় কর্তা এবং এ রাজ্যের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর কথা মেনে চলতে পেশাগতভাবে বাধ্য তিনি, তাই তাঁর কথা অমান্য করেননি তৎকালীন মুখ্যসচিব।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কলাইকুণ্ডার বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে সরকারি কর্মী হিসেবে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের ৫১ (বি) লঙ্ঘন করেছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে ৫১ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ৩ দিনের মধ্যে জানাতে হবে, এই মর্মে শো-কজ চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

এরই উত্তর দিলেন এদিন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় গুছিয়ে, সুনির্দিষ্ট বয়ানে। তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, মুখ্যসচিব হিসেবে তাঁর ঠিক কী দায়িত্ব ছিল এবং তা তিনি কীসের ভিত্তিতে মেনেছেন। এবার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবাবের প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার।