কাল থেকে মুখ্য উপদেষ্টার পদে যোগদান আলাপনের, ‘রাজ্যের প্রয়োজনে ওঁকে রেখেছি’, বললেন মমতা

কাল থেকে মুখ্য উপদেষ্টার পদে যোগদান আলাপনের, ‘রাজ্যের প্রয়োজনে ওঁকে রেখেছি’, বললেন মমতা
কাল থেকে মুখ্য উপদেষ্টার পদে যোগদান আলাপনের, ‘রাজ্যের প্রয়োজনে ওঁকে রেখেছি’, বললেন মমতা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের ক্রমাগত বদলির চাপের কাছে নতি শিকার না করে, বড় চাল চাললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্য উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজই অবসর নিচ্ছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে। কাল থেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলাবেন। আগামী তিন বছরের জন্য এই পদে বহাল থাকবেন আলাপন। এদিকে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিবের দায়িত্বে আসছেন হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। স্বরাষ্ট্রসচিব হচ্ছেন বি পি গোপালিকা।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠির পরেও আলাপনকে ছাড়েনি রাজ্য সরকার। উল্টে সোমবার নিজের কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন ধরে চলা রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই সোমবার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়া যাবে না জানিয়ে, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর আজই বিকেলে রাজ্যকে ফের পাল্টা চিঠি দেয় এ বিষয়ে কেন্দ্র। তাতে মুখ্যসচিবকে অবিলম্বে কেন্দ্রের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, আজই অর্থাৎ ৩১ মে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবসর গ্রহণের দিন ছিল।

কিন্তু রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি এবং ঘূর্ণিঝড় যশ বা ইয়াস পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে, তাঁর কর্মজীবনের মেয়াদ তিন মাস বৃদ্ধির আবেদন জানায় রাজ্য। প্রথমে তাতে সায় দেয় কেন্দ্র। কিন্তু সম্মতিদানের কয়েকদিনের মধ্যেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে বদলির নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। এরপরই কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়।

কেন্দ্র সরকার চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, ‘১৯৮৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভারত সরকারের কাজে যোগদানের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার যোগদান কমিটি। তাঁকে অবিলম্বে সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিক রাজ্য সরকার। ৩১ মে সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির নর্থ ব্লকে কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’ শুক্রবার রাতে পাঠানো সেই চিঠিতে আন্ডার সেক্রেটারি অংশুমান মিশ্র জানান যে, ১৯৫৪ সালের ভারতের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস রুল অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লিতে কাজে যোগ দেওয়ার কেন্দ্রীয় নির্দেশ থাকলেও, যাননি আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে না গিয়ে, নিজের কর্মজীবনের মেয়াদ বৃদ্ধি না করে, ৩১ তারিখই অবসর নিলেন তিনি। পাশাপাশি ১ জুন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টার পদে নতুন দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। আগামী তিন বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন। তবে, এদিন মুখ্যসচিবের সঙ্গে এহেন আচরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, ‘এখন মুখ্যসচিবকে ডাকলে জনসেবার কাজে ক্ষতি হবে, এটা চিঠিতে উল্লেখ করেছিলাম, কিছুক্ষণ আগে রাজ্যের কাজে আলাপনকে নিয়ে একটা চিঠি আসে। আলাপনকে দিল্লিতে যোগ দিতে বলা হয়েছে। আলাপনকে নর্থ ব্লকে যোগ দিতে ফের চিঠি এসেছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে।’

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে ‘ইয়াস’ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে তাঁর সঙ্গে যেতে বলেননি। করোনা এবং ইয়াস পরিস্থিতিতে লড়াইয়ের জন্য ওঁকে রাখা হয়েছে। মুখ্যসচিবকে ডেকে নিচ্ছেন? এমনটা গত ৭৪ বছরে হয়নি।’ এর পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘কেন মুখ্যসচিবকে ডেকে পাঠানো হল? চিঠিতে কোথাও কারণের উল্লেখ করা হয়নি।’ মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, ‘এটা শুধুমাত্র প্রতিহিংসামূলক আচরণ। বাংলা জিততে না পারার জন্যই এমন কাজ করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। ওঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পছন্দ করে না। তাই হয়রান করা হচ্ছে। এমন নির্মম প্রধানমন্ত্রী আগে দেখিনি।’

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী সব আমলাদের পাশে দাঁড়িয়ে, তাঁদের হয়ে বলেছেন যে, ‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সম্মতি ছাড়া এটা করতে পারে না। এটা কি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দেওয়া নয়? এভাবেই কি কেন্দ্র এবং রাজ্য লড়াই করবে? আমি সকলের কাছে আবেদন করছি, এটা শুধু আলাপনের লড়াই নয়, এটা আইএএস, আইপিএস, সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। বিজেপির আমলে আমলারা অসহায়। তাঁদের সম্পর্কে আমার উচ্চ ধারণা আছে। যা বলা হবে, তা তাঁরা করতে বাধ্য নন। অনেক হয়েছে। আমি আমলাদের পাশে আছি। এটা আমলাদের অপমান। ওঁরা খালি ভাষণ দিচ্ছেন।’

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্যুতে দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং আমলাদের একজোট হয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কথাও এদিন বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজেপি স্বৈরাচারীর মতো আচরণ করছে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে সংঘাত চরম আকার নিয়েছে।