ভারত-মায়ানমার সীমান্তে ভূমিকম্প! সাতসকালে মৃদু কম্পন কলকাতাতেও

ভারত-মায়ানমার সীমান্তে ভূমিকম্প! সাতসকালে মৃদু কম্পন কলকাতাতেও
ভারত-মায়ানমার সীমান্তে ভূমিকম্প! সাতসকালে মৃদু কম্পন কলকাতাতেও / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ শুক্রবার অর্থাৎ আজ সাতসকালে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল শহর কলকাতা। ভারত-মায়ানমার সীমান্তে হওয়া ভূমিকম্পের রেশ এসে ধাক্কা দিল বাংলাতেও। কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন জানিয়েছে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিনবঙ্গের কিছু অংশে শুক্রবার সকাল ৫টা বেজে ১৮ মিনিটে কম্পন অনুভুত হয়।

ন্যাশানাল সেন্টার ফর সিসমোলজির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন ভোরে কম্পন অনুভূত হয় ৩০ সেকেন্ডে জন্য। ভূমিকম্পের উৎস মিজোরামের থানজাউল থেকে ৭৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। মাটির ১২ কিলোমিটার গভীরে অনুভূত হয় কম্পন। শুধু কলকাতা নয়, কেঁপে উঠেছে ওপার বাংলাও। কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬.১। এদিকে, ভূমিকম্প হয়েছে ওপার বাংলাতেও। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, চট্টোগ্রাম সহ একাধিক জায়গায় কম্পন অভুভূত হয়েছে। শীতের সকালে ভোরের বেলা ঘুমিয়ে ছিল বাঙালি। এরই মধ্যে দুলে উঠল খাট। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য থেমে যায় কম্পন।

অন্যদিকে, শুধু কলকাতা নয়,একাধিক জেলাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে নেটমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। যদিও সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। হাওড়া, হুগলির একাংশও কম্পনে দুলে উঠেছিল বলে খবর। কম্পনের তীব্রতা ৬.১ । অর্থাৎ তা অত্যন্ত শক্তিশালী বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায়, এই কম্পন তীব্র ছিল। তবে এখনওপর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর সামনে আসেনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভৌগোলিকদের ভাষায় আমাদের ভূপৃষ্ঠ কতগুলি সারফেস বা প্লেটে বিভক্ত। তারমধ্যে অন্যতম বড় প্লেট ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট। এই প্লেটের উত্তর পূর্ব অংশের কিছুটা অবস্থিত মায়ানমার সাগরের নিচে। আর বেশিরভাগটা পার্বত্য বা আধা সমতলে। তাপমাত্রার তারতম্যে ১১ নভেম্বর থেকে আফ্রিকান প্লেট অল্প অল্প করে স্থানচ্যুত হয়ে চলেছে ক্রমাগত। তার জেরেই ইন্দো-অস্ট্রেলিয়া প্লেটও স্থানচ্যুত হয়েছে। এটাকে ভূ-বিদ্যার পরিভাষায় সিফটিং বলা হয়।

এর প্রধান কারণ, ভারতের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমের রাজ্য, যেমন উত্তরাখন্ড, হিমাচল, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, রাজস্থান ও পাঞ্জাবে এখন জাঁকিয়ে শীত। কিন্তু আনুষঙ্গিক নানা কারণে মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে তেমন শীত এখনও পড়েনি। তাই প্লেট শিফট হয়েছে। ইন্দো অস্ট্রেলিয়ান প্লেট কিছুটা অবনমন বা নিচের দিকে নেমে যাওয়ার কারণেই এই ভূমিকম্প।