তিন ঘণ্টার অপারেশন শেষে, কাবু করা গেল দলছুট ‘গজরাজ’কে, পাঠানো হল জঙ্গলে

তিন ঘণ্টার অপারেশন শেষে, কাবু করা গেল দলছুট ‘গজরাজ’কে, পাঠানো হল জঙ্গলে
তিন ঘণ্টার অপারেশন শেষে, কাবু করা গেল দলছুট ‘গজরাজ’কে, পাঠানো হল জঙ্গলে

নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুরঃ অবশেষে কাবু করা সম্ভব হল দলছুট গজরাজকে। ঘণ্টা তিনেকের অপারেশনের পরে, অনেক কষ্টে রাতের অতিথিকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে কাবু করেন বন দফতরের কর্মীরা। এরপর ক্রেনে করে তাকে জঙ্গলের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

আমাদের দেশে বছরের বিভিন্ন সময়ে এভাবে লোকালয়ে হাতির প্রবেশের ঘটনা ঘটে থাকে। কিন্তু মেদিনীপুর শহরের বুকে এই ঘটনা এই প্রথম। আর এই ঘটনার সাক্ষী থাকলেন শহরের বাসিন্দারা। কালকের এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে যে, দলমার জঙ্গল থেকে হাতিটি কাঁসাই নদী পেরিয়ে, বুনো হাতিটি ধর্মা ট্রাফিক মোড় হয়ে গোলকুঁয়াচক হয়ে মেদিনীপুর কলেজ মাঠ হয়ে শহরে প্রবেশ করে। তারপর হুলস্থুল পড়ে যায় শহর জুড়ে। শহরে ঢোকার পর, দলছুট এই হাতি বারবার নিজের অবস্থান বদলাতে থাকে। মেদিনীপুর কলেজ চত্বর ঘুরে, সে ঢুকে পড়ে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে।

এদিকে তাকে শহর থেকে বার করতে ক্রমাগত চেষ্টা শুরু করেন বন দফতরের কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশও। এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষরাও। তাঁদের ভিড় সামলাতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। অবশেষে হাতিটিকে কাবু করতে সক্ষম হন বনকর্মীরা।

রাত ১১ তা ১০ মিনিট নাগাদ মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে থাকা হাতিটিকে লক্ষ্য করে ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়া হয়। আর তাতেই শেষপর্যন্ত কাবু হয়ে পড়ে হাতিটি। খানিকটা ঝিমিয়ে পড়ে সে। এরপর তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়, বনকর্মীদের পক্ষ থেকে। শেষে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ক্রেনে চড়িয়ে গাড়িতে তোলা হয় এবং জঙ্গলের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.