‘নজরবন্দি’ থেকেও নজরের বাইরে অনুব্রত! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কার্যত ক্ষণিকের লুকোচুরি ‘খেলা’ খেললেন

‘নজরবন্দি’ থেকেও নজরের বাইরে অনুব্রত! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কার্যত ক্ষণিকের লুকোচুরি ‘খেলা’ খেললেন
‘নজরবন্দি’ থেকেও নজরের বাইরে অনুব্রত! কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কার্যত ক্ষণিকের লুকোচুরি ‘খেলা’ খেললেন

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় একুশের বিধানসভা ৮ দফার নির্বাচনের, বাকি মাত্র আর এক দফা। আগামীকালই রয়েছে অষ্টম এবং শেষ দফার নির্বাচন। এই শেষ দফায় ভোট রয়েছে তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের গড় বীরভূমেও।

আর এই নির্বাচনের আগেই গতকাল অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল, সোমবার বিকেল ৫ টা থেকে ৩০ এপ্রিল সকাল ৭ টা পর্যন্ত তাঁকে ‘নজরবন্দি’ করেছে নির্বাচন কমিশন।

অথচ আজ তাঁকে ‘নজরবন্দি’ করার কথা ঘোষণা করার পর, কমিশনের নজরবন্দি থেকেও, কার্যত কমিশনের নজরের বাইরে গেলেন অনুব্রত মণ্ডল। কমিশনের সঙ্গে কার্যত লুকোচুরি খেললেন একদফা। আসলে, বাংলায় নির্বাচনের শুরু থেকেই বলে আসছেন তিনি ‘খেলা হবে’। আজ তিনি বোধহয় একপ্রকার সেই খেলাই শুরু করে দিলেন।

এদিন সকালে তাঁর নজরদারির জন্য মোতায়েন করা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সামনে দিয়েই, গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর গন্তব্য ছিল জেলার তৃণমূলের বিভিন্ন পার্টি অফিস। এরপর রাস্তায় তাঁর পিছু নিলেও, রাস্তায় মাঝপথে তাঁর গাড়ির হদিশ হারিয়ে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

পরে অবশ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, মাঝ রাস্তায় বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের গাড়ি ট্র্যাফিক সিগন্যালে একটু বেশিই এগিয়ে যায়, খানিকক্ষণ পরে, তাঁর গাড়ির নাগাল পায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দল। তবে, দীর্ঘক্ষণ তাঁর গাড়ি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেও তা খুঁজে বের করতে পারেনি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরকম কাণ্ডে একসময় খানিক চাপে পড়ে যায় বাহিনী। তাঁকে পাওয়া যায় তারাপীঠে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে নাকি একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। তাই কমিশন সূত্রে খবর, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেকারণেই এই সিদ্ধান্ত। নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এবং একজন এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

এদিকে কমিশন সূত্রে আরও খবর, গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হবে। জানা গিয়েছে, কমিশনের এই ‘নজরবন্দি’ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আইনি পথ অবলম্বন করতে পারেন বীরভূমের তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা।

উল্লেখ্য, ২০১৬-র বিধানসভা ভোট ও ২০১৯ লোকসভা ভোটেও তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতিকে নজরবন্দি করেছিল কমিশন। এবারেও বিধানসভা নির্বাচনেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখা গেল। অন্যদিকে, এভাবে ভোটের আবহে, এতো দীর্ঘসময় ধরে কোনও নেতাকে নজরবন্দি করে রাখার সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।