চিকিৎসার জন্য চাই আড়াই কোটি টাকা! প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়ে কাতর আর্জি একরত্তি কন্যার

চিকিৎসার জন্য চাই আড়াই কোটি টাকা! প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়ে কাতর আর্জি একরত্তি কন্যার
চিকিৎসার জন্য চাই আড়াই কোটি টাকা! প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়ে কাতর আর্জি একরত্তি কন্যার

বয়স মাত্র ৭ বছর৷ আর এই একরত্তি শরীরেই বাসা বেঁধেছে দুরারোগ্য এক অসুখ। এ অসুখ এমনই যা থামিয়ে দেয় উচ্চতা বৃদ্ধি। বাড়ে না ওজনও। অসুখের প্রকোপে শরীরে নানা পরিবর্তনও দেখা দিতে থাকে। এর চিকিৎসাও খুব সাধারণ নয়, প্রবল ব্যয়সাধ্য। বাবার একার পক্ষে সে খরচ চালানোর ক্ষমতা নেই। উপান্তর না দেখে তাই খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে করজোড়ে সাহায্যের কাতর আর্জি জানালো একরত্তি মেয়েটি৷

জানা গিয়েছে, দিল্লির বাসিন্দা ছোট্ট মেয়ে মাহি এক বিরল জিনঘটিত অসুখের শিকার। যার নাম মরকিও সিনড্রোম। এ অসুখে উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি থমকে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরও ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। হাড়ের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে বেঁকে যেতে থাকে শিরদাঁড়াও। মাথা শরীরের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার দেখতে লাগে ঠিক বামনের মতো। প্রতি ২ লক্ষ জনের মধ্যে ১ জন এই রোগের কবলে পড়ে। বাবা-মায়ের থেকেই এই রোগ এসে পৌঁছায় সন্তানের শরীরে। এদিকে এই রোগের তেমন কোনও চিকিৎসা এদেশে নেই। বিদেশ থেকে আনাতে হয় ওষুধ। যার খরচও বিপুল।

মাহির বাবা সুশীল কুমার পেশায় এক পুকিশকর্মী। বেতন প্রতি মাসে ২৭ হাজার টাকা। তাই এই রোজগারেও মেয়ের চিকিৎসা খরচ যোগাতে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিতে হয়েছে তাঁকে। পুলিশ দপ্তর থেকেও ১ লক্ষ টাকাও ঋণ নিতে হয়। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। মেয়েকে সারিয়ে তুলতে প্রয়োজন আড়াই কোটি টাকার চিকিৎসার। বিদেশ থেকে ওষুধ আনলেই দিল্লির এইমসে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার সুযোগ পাবে মাহি। সেই ওষুধের প্রতি ভায়ালের দামই প্রায় ৭৮ হাজার টাকা। কিন্তু এত টাকা জোগার করার সাধ্য সুশীল বাবুর নেই। তাই অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন সুশীলের পরিবার।

সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে কাতর আবেদন জানায় মাহি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সে বলে, “নমস্কার, মোদিজি। আমি মাহি। বয়স ৭ বছর। কিন্তু আমার উচ্চতা বাড়ছে না। অসুখ হয়েছে। আপনি আমাকে সাহায্য করবেন? আপনি আমার ওষুধের ব্যবস্থা করে দেবেন? আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই।” শিশুকন্ঠে ওই একরত্তির গলার প্রার্থনা শুনে চোখে জল এসেছে সকলেরই৷ মাহি কি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য পাবে? সে উত্তর সময়ই দেবে।