জেহাদি হামলা রুখতে বাধ্যতামূলক করা হোক সামরিক প্রশিক্ষণ! প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বিজেপি বিধায়ক হিরণের

জেহাদি হামলা রুখতে বাধ্যতামূলক করা হোক সামরিক প্রশিক্ষণ! প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বিজেপি বিধায়ক হিরণের
জেহাদি হামলা রুখতে বাধ্যতামূলক করা হোক সামরিক প্রশিক্ষণ! প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বিজেপি বিধায়ক হিরণের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলা এবং কেরলের ১৮ বছরের উর্ধ্বে তরুণ-তরুণীদের বাধ্যতামুলকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এই দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিলেন খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণ। পাশাপাশি তাঁর প্রস্তাব সীমান্ত সংঘর্ষ এবং জঙ্গি হামলার শহিদ জওয়ানদের পরিবারকে ‘তেরঙ্গা পরিবারের’ মর্যাদা দিক কেন্দ্রীয় সরকার।

কিন্তু বাংলার এই বিজেপি বিধায়কের কেন এমন দাবী? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা দু’পাতার চিঠিতে হিরণ জানিয়েছেন, ‘সাম্প্রতিকের প্রেক্ষাপটে কেরল এবং বাংলার বিশেষত হিন্দু পরিবারগুলির উপর সাম্প্রদায়িক অত্যাচার এবং জেহাদি হামলা ঠেকাতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।’ সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হিরণের এই চিঠিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একই সঙ্গে চিঠিতে শহিদ জওয়ানদের পরিবারগুলিকে বিশেষ সম্মান প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়ারও আরজি জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি বিধায়কের কথায়, সীমান্ত সংঘর্ষ এবং জঙ্গি মোকাবিলা করতে গিয়ে শহিদ হওয়া জওয়ানদের পরিবারগুলিকে ‘তেরঙ্গা পরিবার’-এর মর্যাদা দেওয়া হোক। এলাকার এই পরিবারগুলিকে বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন হিরণ।

খড়গপুরের বিজেপি বিধায়কের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠির বয়ান অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট কিংবা ২৬ জানুয়ারি এলাকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য শহিদ জওয়ানদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে এই পরিবারের সদস্যরাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। ওই বিশেষ দিনগুলিতে সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁদের আমন্ত্রণ করতে হবে। শহিদ জওয়ানদের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের সুপারিশ করেছেন হিরণ। রেলস্টেশন-রাস্তা-সরকারি দপ্তরের সামনে সংশ্লিষ্ট এলাকার শহিদ জওয়ানদের নামের ফলক বসানোর সুপারিশও করা হয়েছে। চিঠিতে শহিদ জওয়ানদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের কথাও বলেছেন তিনি।

খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠি

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মত পার্থক্যের জেরে দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্ব ক্রমশ বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন হয় যে, কার্যত মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায় এই দুইয়ের। দলের অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায় না বহুদিন হল। বর্তমানে দলের কোনও অনুষ্ঠানেই দেখা যায় না হিরণকে। যা স্বাভাবিকভাবেই উসকে দিয়েছিল তাঁর দলত্যাগের বিতর্ক। কিন্তু এদিনের হিরণের চিঠি সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।