মালদহের বুথে ভোটের কাজে করোনা আক্রান্ত আশাকর্মী! রিপোর্ট পজিটিভ দেখিয়েও মেলেনি ছাড়!

মালদহের বুথে ভোটের কাজে করোনা আক্রান্ত আশাকর্মী! রিপোর্ট পজিটিভ দেখিয়েও মেলেনি ছাড়!
মালদহের বুথে ভোটের কাজে করোনা আক্রান্ত আশাকর্মী! রিপোর্ট পজিটিভ দেখিয়েও মেলেনি ছাড়!

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ বাংলার শেষ দফার নির্বাচন চলছে। করোনা রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অথচ আজ শেষ দফার ভোটে এক সাংঘাতিক চিত্র উঠে এল মালদহের বুথে। এখানে ভোটের ডিউটিতে করোনা আক্রান্ত এক আশা কর্মী।

হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন। মালদহ বিধানসভার ১৭০ নম্বর বুথে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, করোনার রিপোর্ট পজিটিভ দেখিয়েও কোনও লাভ হয়নি। বরং উল্টে ওই আশাকর্মীর কপালে জুটেছে ব্যঙ্গ, আর শো-কজ নোটিশ। এমনই চূড়ান্ত অমানবিক ঘটনা ঘটেছে।

মালদহ বিধানসভার ১৭০ নম্বর বুথে, সাহাপুর জুনিয়র বেসিক স্কুলে সকাল থেকেই ছিলেন ওই কর্মী। তবে, পরে নির্বাচন কমিশনের কাছে খবর পৌঁছতেই তাঁকে সরানো হয়েছে। করোনা আক্রান্ত ওই আশাকর্মী জানিয়েছেন, জ্বর ও কাশি থাকায় চলতি মাসের ২৪ তারিখ তিনি মৌলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিজের লালা পরীক্ষা করান৷ ২৬ তারিখ সেই পরীক্ষার রিপোর্ট এলে, দেখা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত। এমনকি তাঁর ১৪ বছরের ছেলেও করোনায় আক্রান্ত। কিন্তু তার মধ্যেই ভোটের ডিউটি এসেছিল।

ওই আশাকর্মীর দাবি তাঁর করোনার রিপোর্ট তিনি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ও বিডিওকে জানান৷ কিন্তু, তাঁরা কেউ তাঁর কথা শুনতে চাননি৷ উলটে বাড়িতে পুলিশ পাঠানোর হুমকি দেন৷ সেই হুমকি পাওয়ার পরও, তিনি বাড়িতেই বসেছিলেন। কারণ, অসুস্থ শরীর নিয়ে তাঁর যাওয়ার ক্ষমতা ছিল না। এরপর বুধবার বিএমওএইচের সঙ্গে দেখা করে পুরো বিষয় খুলে বলেন৷

এখানেও কোনও সাহায্য মেলেনি। বরং, বিএমওএইচ তাঁকে এ নিয়ে ব্যঙ্গ করতে থাকেন বলে দাবি করেছেন তিনি। এমনকি বিডিওর কাছে গেলে, তিনিও তাঁর কোনও কথা শুনতে চাননি৷ শেষপর্যন্ত, বাধ্য হয়েই তিনি করোনা আক্রান্ত অবস্থাতেই আজ ভোটের ডিউটি করতে আসেন৷

জানা গিয়েছে যে, ওই করোনা আক্রান্ত আশাকর্মীর স্বামীও জ্বরে আক্রান্ত৷ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রের সাহাপুর নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে স্যানিটাইজার, গ্লাভস দেওয়ার দায়িত্বভার ছিল তাঁর হাতে।

তবে, এদিন পুরো বিষয়টা জানাজানি হতেই, ওই আশাকর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে, এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তের মধ্যেই। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অন্য ভোট কর্মীরা, এমনকি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরাও।