ভোগান্তির সমাপ্তি! অনেক ঘোরাঘুরি করার পর, অবশেষে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা পেলেন পিঙ্কি

ভোগান্তির সমাপ্তি! অনেক ঘোরাঘুরি করার পর, অবশেষে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা পেলেন পিঙ্কি
ভোগান্তির সমাপ্তি! অনেক ঘোরাঘুরি করার পর, অবশেষে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা পেলেন পিঙ্কি

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদাঃ অনেক ঘোরাঘুরি করার পরেও মিলছিল না চিকিৎসা। শুধুই হয়রান হতে হচ্ছিল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বারোডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা পিঙ্কি দাসকে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে কিছুতেই চিকিৎসা মিলছিল না। অবশেষে এই ভোগান্তি থেকে মিলল রেহাই।

সংবাদমাধ্যমে পিঙ্কির এই হয়রানির খবর প্রকাশিত হতেই, নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বছর ২৪ এর পিঙ্কি দাস গত এক বছর ধরে অজানা রোগে আক্রান্ত। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরেই বহু সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরেও কোথাও চিকিৎসা মিলছিল না। অবশেষে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেই এই মুহূর্তে চিকিৎসা শুরু হয়েছে পিঙ্কির।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কোনওভাবেই ফেরানো যাবে না। কিন্তু তার পরেও, একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ না করা এবং রোগী ফেরানোর অভিযোগ উঠছে। পিঙ্কির সঙ্গেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল।

সূত্রের খবর, পিঙ্কি দাসের মা পেশায় দিনমজুর, আর বাবা ভ্যান চালান। পিঙ্কি বিবাহিতা। তবে, স্বামীর অত্যাচারের কারণে বেশ কয়েক বছর ধরেই দুই সন্তান নিয়ে, বাবা-মার সঙ্গে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে, পিঙ্কি এমন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায়, স্বভাবতই বিপদে পড়েন তাঁর বাবা-মা। তার উপর, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা না পেয়ে, তাঁদের সমস্যা আরও জটিল হতে শুরু করে। এই অবস্থায় স্থানীয় তৃণমূল প্রশাসন ও ব্লক প্রশাসনের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছিলেন পিঙ্কি। আর সেই খবর সব সংবাদমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।

এরপরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে মালদার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পিঙ্কিকে ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁর চিকিৎসার জন্য গাড়ি থেকে শুরু করে অর্থ সাহায্য সবটাই করেছে জেলা প্রশাসন। এই মুহূর্তে পিঙ্কি ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে অসুস্থ মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পেরে এবং তাঁর চিকিৎসা শুরু হওয়ায় স্বস্তিবোধ করছেন পিঙ্কির বাবা-মা। পিঙ্কির মা লক্ষ্মী দাস এর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। চিকিৎসক ডি সরকারও সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে জানা গিয়েছে যে, ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হওয়ার কারণে পিঙ্কির শরীরে একাধিক রোগ বাসা বেঁধেছে। মাথা ও সমস্ত শরীরে রয়েছে অসহনীয় ব্যথা। সঙ্গে রয়েছে শ্বাসকষ্ট। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পিঙ্কির চিকিৎসা প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে যে, আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁরা পিঙ্কিকে কলকাতায় নিয়ে যেতেও প্রস্তুত। কিন্তু এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করছেন চিকিৎসক ডি সরকার। তিনি জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে পিঙ্কির শারীরিক অবস্থা এতোটাই খারাপ যে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে, তাঁকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.