ছত্তীশগড়ে সুকমা-বিজাপুরে মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গুলির লড়াইয়ে শহিদ ২২ জওয়ান

ছত্তীশগড়ে সুকমা-বিজাপুরে মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গুলির লড়াইয়ে শহিদ ২২ জওয়ান
ছত্তীশগড়ে সুকমা-বিজাপুরে মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গুলির লড়াইয়ে শহিদ ২২ জওয়ান / ছবি সৌজন্যে- Facebook Posted By @CentralReservePolice

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ছত্তীশগড়ে সুকমা-বিজাপুরে মাওবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির লড়াইয়ে ক্রমশ বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। জানা গিয়েছে যে, এখনও পর্যন্ত এই গুলির লড়াইয়ে ২২ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ বেশ কয়েকজন। শনিবার দুপুর ১২ টা নাগাদ এই গুলির লড়াই শুরু হয়। মাওবাদীদের খোঁজে অভিযান চালিয়েছিল সিআরপিএফের কোবরা বাহিনী, ডিআরজি এবং এসটিএফ৷ সেই সময়ই তাঁদের উপর আচমকা হামলা চালায় মাওবাদীরা। যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকেও এর জবাব দেওয়া হয়। আর এই গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এ পর্যন্ত ২২ জওয়ান।

গতকাল, অর্থাৎ শনিবার সকাল থেকেই ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। এই ঘটনা প্রসঙ্গে ছত্তিশগড়ের ডিরেক্টর জেনারেল (নকশাল অভিযান) অফ পুলিশ অশোক জুনেজা জানিয়েছেন, ‘গতকাল সংঘর্ষে ৫ জন মারা গিয়েছিলেন। আজ মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।’

উল্লেখ্য, শনিবার বিজাপুর ও সুকমার মাঝে দক্ষিণ বস্তারের জঙ্গলে মাওবাদীদের লুকিয়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। সেই খবর পেয়েই অভিযানে নামে ২ হাজারের বেশি জওয়ান। জঙ্গলে ভিতরে প্রবেশ করতেই তাঁদের সঙ্গে মাওবাদীদের গুলির লড়াই শুরু হয়। বিকেল তিনটে পর্যন্ত এই লড়াই চলে। মাওবাদীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অনেক জওয়ানের। পাশাপাশি এখনও খোঁজ নেই অনেকেরই। যদিও এও জানা গিয়েছে যে, জওয়ানদের গুলিতেও বেশ কয়েকজন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে।

গতকালই জানা গিয়েছিল যে, বীজাপুরের জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে সে রাজ্যে শহিদ হয়েছেন ৫ জন জওয়ান, ৩ জন সিআরপিএফ, আর ২ জন রাজ্যের বিশেষ বাহিনীর সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছিল ২ মাও সদস্যের মৃতদেহও। কিন্তু আজ সেই সংখ্যাটা বদলে গিয়েছে। ক্রমশ বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। মোট ৯ মাওবাদীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি জওয়ানদের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মাওবাদী হামলা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের জওয়ানরা মৃত্যু বরণ করেছেন। তাঁদের শ্রদ্ধা জানাই। আমি সংশ্লিষ্টদের পরিবারকে বলতে চাই, এই ত্যাগ বৃথা যাবে না। অন্যদিকে, তিনি ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলার সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি গতকাল সন্ধ্যাতেই টুইট করেন। তিনি লেখেন, ‘এই বীর জওয়ানদের বলিদান কখনও ভোলা যাবে না।’ আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ১০ দিন ধরেই গোয়েন্দারা খবর পাচ্ছিলেন ওই এলাকাতেই কোথাও লুকিয়ে আছেন শীর্ষ মাওবাদী নেত্রী মাধবী হিদমা। উল্লেখ্য, এই মাওবাদী নেত্রী ২০১৩ সালের ঝিরম ঘাঁটি হামলার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ছত্তিশগড় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা-সহ ৩০ জন মারা যান সেই মাওবাদী হামলায়।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.