বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

দেশভাগের যন্ত্রণাকে স্মরণ করতে পালিত হবে বিশেষ দিবস! বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

০৩:৩০ পিএম, আগস্ট ১৪, ২০২১

দেশভাগের যন্ত্রণাকে স্মরণ করতে পালিত হবে বিশেষ দিবস! বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশভাগের যন্ত্রণাকে কখনই ভোলার নয়, ভোলা সম্ভবও নয়। শনিবার একথা জানিয়ে, দেশভাগের স্মৃতি উসকে দিয়ে, ঘোষণা করলেন ১৪ আগস্ট ‘Partition Horrors Remembrance Day’ বা ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। এদিন টুইট করে এই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশভাগের সময় যাঁদের প্রাণ গিয়েছে, তাঁদের স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী।

এই ঘোষণার সঙ্গে ঠিক কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী? এদিন নরেন্দ্র মোদী টুইটারে লেখেন, ‘দেশভাগের যন্ত্রণাকে কখনও ভোলা যাবে না। আমাদের লক্ষ লক্ষ ভাইবোনকে ঘর ছাড়তে হয়েছিল। অর্থহীন ঘৃণা ও হিংসার কারণে কত মানুষকে তাঁদের প্রাণ হারাতে হয়েছিল। সেই সব মানুষদের সংগ্রাম ও বলিদানকে স্মরণে রেখে, ১৪ আগস্ট বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস পালিত হবে।’ ওপর একটি টুইটে মোদী জানিয়েছেন, সামাজিক ভেদাভেদ দূর করে দেশবাসীকে একসূত্রে বেঁধে রাখতে সাহায্য করবে এই দিনটি।

https://twitter.com/narendramodi/status/1426410194062303232

শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই নন, এই দিনটির প্রসঙ্গে টুইট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘দেশভাগের সময় হিংসা ও ঘৃণার ছায়ায় আমাদের অগণিত ভাইবোনেদের ত্যাগ, সংঘর্ষ ও বলিদানকে স্মরণ করে, প্রধানমন্ত্রী ১৪ আগস্টকে ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

https://twitter.com/AmitShah/status/1426435371475161088

দেশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ যখন ওঠে আলোচনায়, সেই সঙ্গে দেশভাগের ক্ষতও প্রকট হয়ে ওঠে। দেশভাগের সময় কমপক্ষে ১০ লক্ষ নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি। শুধু মৃত্যুই নয়, ধর্ষণ, অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটেছিল। সব হারিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন দেড় কোটি ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ। নিজেদের ঘর, আত্মীয়-পরিজন সব কিছু ছেড়ে একেবারে ভিন্ন জায়গায় গিয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম শুরু করতে হয়েছিল তাঁদের। আজও সেইসব ঘটনা পড়লে বা জানলে, ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে মানুষের মন। এদেশের বহু সিনেমা-সাহিত্যে বারবার প্রতিফলিত হয়েছে দেশভাগের সময়ের সেইসব ঘটনা বা সেই সময়ের পরিস্থিতি। প্রতিফলিত হয়েছে দেশভাগের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে মানুষের জীবন সংগ্রামের কাহিনি।

এদিকে, এতদিন পরে সরকারের এই ঘোষণাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে জল্পনা। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর টুইটকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। দেশভাগের জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। পাল্টা তোপ দেগেছেন, বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারও। বিভাজনের রাজনীতি করছে সিপিএম, দাবি বিজেপির।