মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২

মমতার সঙ্গে ঝালমুড়ি খাওয়ার ফাঁকে কী কথা হয়েছিল? তৃণমূলে যোগ দিয়েই ফাঁস করলেন বাবুল

০৫:৪৭ পিএম, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

মমতার সঙ্গে ঝালমুড়ি খাওয়ার ফাঁকে কী কথা হয়েছিল? তৃণমূলে যোগ দিয়েই ফাঁস করলেন বাবুল

গত শনিবারই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ঘাসফুলে যোগ দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। আর প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তৃণমূলে প্রবেশ করতেই চমকে গিয়েছেন রাজনীতিবিদদের একাংশ৷ বিশেষ করেই বিজেপির নেতৃত্বরা তো বিশ্বাসই করতে পারছেন না। বাবুল তৃণমূলে যোগ দিতেই উঠে আসছে বছর ছয়েক আগের ঝালমুড়ি প্রসঙ্গ। ২০১৫ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই বিজেপি নেতৃত্বরা বাবুল সুপ্রিয়ের তৃণমূলে যোগদানের সঙ্গে ঝাড়মুড়ি তত্ত্ব জুড়ে দিয়েছিলেন। এমনকি বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা বাবুলকে ঝালমুড়ি নিয়ে খোঁটা দিতেও ছাড়েননি।

তবে এসবই এক ঝটকায় উড়িয়ে দিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তৃণমূলে যোগদানের পর এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেখানেই তাঁর বক্তব্য, "কাজের জন্য শুধু ঝালমুড়ি খাবেন কেন? সকলের সঙ্গেই বসে কথা বলতে রাজি।" একই সঙ্গে ৬ বছর আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঠিক কী কথা হয়েছিল তা-ও ফাঁস করলেন তিনি। বাবুল জানান, "২০১৫ সালে স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের উদ্বোধনে কলকাতায় আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নজরুল মঞ্চের সেই অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। নিরাপত্তার কারণে এলাকায় গাড়ি রাখতে দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি এসেছিল। তখনই মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বলেন, "তুমি তো রাজভবনেই যাচ্ছ। নৈশভোজ রয়েছে। আমার গাড়িতে এস।" আমি তখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক গাড়িতে বসেছিলাম। কারণ সেসময় নতুন মন্ত্রী হয়েছি। অনেকগুলো কথাও বলার ছিল। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের পাশাপাশি ইএসআই হাসপাতালের বিষয়েও কথা ছিল।"

পাশাপাশি বাবুল আরও বলেন, "যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ভিক্টোরিয়ার সামনে দাঁড়িয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় ঝালমুড়ি খেতে বলেছিলেন। একজন প্রশাসনিক প্রধান ঝালমুড়ি খেতে বলেছিলেন, তাই খেয়েছিলাম। কেন খাব না? কাজের জন্য সকলের সঙ্গে বসে খেতে রাজি।" সঙ্গে বাবুল যোগ করেন, "আগামীদিনে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কাজের জন্য ধোকলা খেতে হয়, তাহলেও আমি রাজি।’"

এদিকে, তৃনমুলে যোগদানের পরই বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা বাবুলকে উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেছিলেন, "তার মানে ঝালমুড়ি রফা আগেই হয়ে গিয়েছিল। জাস্ট অপেক্ষা করা হচ্ছিল রাজ্যসভাতে কীভাবে পাঠানো যায়। তাই হয়তো বেচারী অর্পিতাদেবীকে তড়িঘড়ি রাজ্যসভা ছেড়ে থিয়েটারে মন দিতে বলা হল।" যদিও এই কথায় প্রেক্ষিতে বাবুলকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর সাফ উত্তর, "ওরকম হাজরা অনেক আছেন।" অর্থাৎ বিজেপি নেতৃত্বদের বাঁকা কথা গায়েই মাখতে নারাজ এই রাজনীতিবিদ।

https://twitter.com/tweetanupam/status/1439169689293254663?ref_src=twsrc%5Etfw