কলকাতা পুরসভার মেয়র পদপ্রার্থী কি তবে বাবুল? তৃণমূলকে ‘ঝুনঝুনি’ কটাক্ষ দিলীপের

কলকাতা পুরসভার মেয়র পদপ্রার্থী কি তবে বাবুল? তৃণমূলকে 'ঝুনঝুনি' কটাক্ষ দিলীপের
কলকাতা পুরসভার মেয়র পদপ্রার্থী কি তবে বাবুল? তৃণমূলকে 'ঝুনঝুনি' কটাক্ষ দিলীপের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে ভাবা হচ্ছে বাবুল সুপ্রিয়কে। এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতির অলিন্দে। তবে, এদিন সেই জল্পনা কার্যত উড়িয়ে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ‘তৃণমূল বাবুল সুপ্রিয়কে কিছুই দেবে না, ঝুনঝুনি দিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পর, বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে বিজেপির দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এরপর মাস কয়েক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার পরই দলের প্রতি কার্যত বিরক্ত হয়ে, আস্থা হারিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। তৃণমূল নেতৃত্বও বাবুলকে সাদরে দলে গ্রহণ করে। তৃণমূল নেতৃত্ব, তাঁর মত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ কাজে লাগানোর বার্তাও দিয়েছিল।

যদিও এখনও পর্যন্ত তেমন বিশেষ কোনও পদ পাননি বাবুল সুপ্রিয়। তবে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুনজরে রয়েছেন তিনি। তাই আসন্ন কলকাতা পুরভোটে বাবুলকে মেয়র পদে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে তৃণমূলেরই অন্দরে।

এদিকে, মঙ্গলবার ইকোপার্কে প্রাতর্ভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই জল্পনায় আগাম জল ঢাললেন একদা বাবুলের শীর্ষ-নেতা। দিলীপ ঘোষ বলেন, কেবল সাংবাদিকদের খবর করার জন্য এমন জল্পনা করা হচ্ছে বলে দাবি করে, দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল কিছুই করবে না। বাবুল সুপ্রিয়কে কিছুই দেবে না। শুধু ঝুনঝুনি দিচ্ছে। ওটা আপনাদের (সাংবাদিকদের) খাওয়ানোর জন্য করা হয়েছে। কিছুই হবে না।’

এর পাশাপাশি বাবুলের কলকাতার মেয়র পদের প্রার্থী না হওয়ার সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কাকে করবে ওনাদের ব্যাপার। তবে বাবুল সুপ্রিয় কলকাতায় কবে কাজ করেছেন! উনি ওখানকার ভোটারও নন।’

বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি যাই বলুন, কলকাতার কৈলাস বোস স্ট্রিট রোডে বাবুল সুপ্রিয়র পৈতৃক বাড়ি রয়েছে। তিনি আগে ওখানকার ভোটারও ছিলেন। আসানসোলের সাংসদ হওয়ার পর তিনি সেখানকার ভোটার হয়ে যান। তবে, বাবুলের কলকাতার বাড়িটি এখনও রয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ঊর্ধ্বে শিল্পী হিসাবে কলকাতায় তাঁর জনপ্রিয়তাও রয়েছে। ফলে কৈলাস বোস স্ট্রিট এলাকার ওয়ার্ড থেকে বাবুলের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

যদিও সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জ কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে পরাজিত হয়েছেন বাবুল। এছাড়া দল বদলের পর কলকাতার মেয়রের মতো পদে বাবুলকে প্রার্থী করলে নীচুতলার নেতা-কর্মীরা কীভাবে নেবে, তা নিয়েও দলের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। তবে, তৃণমূল যদি বাবুলকে মেয়র পদপ্রার্থী করে এবং তিনি যদি জিতে যান, তাহলে বিজেপির মুখ পুড়বে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাই সবদিক বিবেচনা করেই দিলীপ ঘোষ বাবুলের মেয়র পদপ্রার্থী হওয়ার জল্পনায় জল ঢালার চেষ্টা করছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

তবে বাবুলকে নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হলেও বিজেপি নিজের ঘর গোছাতেই ব্যস্ত। এখনও পর্যন্ত বিজেপির পক্ষ থেকে মেয়র পদপ্রার্থীর কোনও নাম সামনে আসেনি। তবে কলকাতা ও হাওড়ার পুর নির্বাচনে জেতার লক্ষ্যে যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তা দিলীপ ঘোষের মন্তব্যেই স্পষ্ট। তাঁর কথায়, ‘পুরভোটে জেতার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। বুথস্তরে মিটিং, কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়ে গিয়েছে।’