বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

জেলবন্দী রাজমিস্ত্রী শেখরের প্রেমে মোহিত বালির পলাতক গৃহবধূ! জানালেন 'ওকেই ভালোবাসি'

০৯:২১ পিএম, ডিসেম্বর ২৩, ২০২১

জেলবন্দী রাজমিস্ত্রী শেখরের প্রেমে মোহিত বালির পলাতক গৃহবধূ! জানালেন 'ওকেই ভালোবাসি'

রাজমিস্ত্রীদের হাত ধরে মুম্বই পাড়ি দিয়েছিলেন হাওড়ার নিশ্চিন্দা আনন্দনগর এলাকার দুই গৃহবধূ, অনন্যা ও রিয়া কর্মকার। সম্পর্কে তাঁরা একে অপরের জা। পলাতক হওয়ার সময় নিজের ৭ বছরের সন্তান আয়ুষকেও সঙ্গে নিয়েছিলেন রিয়া। অবশেষে বুধবার আসানসোল স্টেশন থেকে তাঁদের সকলকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই রাজমিস্ত্রী শেখর ও শুভজিৎকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দিল হাওড়া জেলা আদালত।

মামলা প্রসঙ্গে, সরকারি আইনজীবী তারাগতি ঘটক জানিয়েছেন, রাজমিস্ত্রীদের বিরুদ্ধে ৩৬৫ ও ৩৬৬ ধারায় অপহরণ মামলা দায়ের হয়েছে। দুজনেরই জামিন খারিজ হয়ে গিয়েছে। আপাতত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের পর আগামী ৬ জানুয়ারি তাঁদের ফের আদালতে তোলা হবে। তবে গোপন জবানবন্দি নিয়ে ওই দুই গৃহবধূকে ছেড়ে দেয় আদালত। শিশুটিকে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর শ্রীরামপুর বাজারে শীতের পোশাক কিনবেন বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান এই দুই বধূ। সঙ্গে ছিল ৭ বছরের শিশুপুত্রও। তারা নিঁখোজ হওয়াতে কর্মকার পরিবারের তরফে পুলিশে রাজমিস্ত্রীদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, প্রথমে মুর্শিদাবাদে সুতি এলাকায় দুই রাজমিস্ত্রীর বাড়িতেই ওঠেন তাঁরা। কিন্তু রাজমিস্ত্রীদের পরিবার ওই গৃহবধূদের মেনে নেননি। তাই পরের দিনই তাঁরা মুম্বই পাড়ি দেন। কিন্তু পকেটে টান পরায় ফের মুম্বই মেল ধরে ফিরে আসেন। তখনই পুলিশের জালে ফেঁসে যান।

এদিকে পরিবার যতই অপহরণের অভিযোগ দায়েক করুক না কেন, ধরা পড়ার পর পুলিশকে ওই দুই গৃহবধূরা জানান, তাঁদের অপহরণ করা হয়নি। বরং ভালোবেসেই ঘর ছেড়েছিলেন দুই জা। আবার এক গৃহবধূ জোর গলায় এও স্বীকার করেছেন, শেখরকে তিনি ভালোবাসেন। তাই তার সঙ্গে পাড়ি দিয়েছিলেন মুম্বই। তবে পরিবারের তরফে তোলা অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজমিস্ত্রীদের আদালতে তোলা হয়।

এদিকে গোটা ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত গৃহবধূদের স্বামীরা। রিয়ার স্বামী প্রভাত কর্মকার জানিয়েছেন, সন্তানকে ফিরে পেয়েই তিনি খুশি। অন্যদিকে অনন্যার স্বামী পলাশ কর্মকার মুখ খুলতে চাননি। এদিকে গৃহবধূরা যেহেতু অপহরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে রাজমিস্ত্রীদের ভালোবাসার কথা স্বীকার করেছেন, তাই দুই বধূকে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও কর্মকার পরিবার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।