অজয়ের চর থেকে উদ্ধার একের পর এক বহু প্রাচীন শিবলিঙ্গ! চাঞ্চল্য এলাকায়

অজয়ের চর থেকে উদ্ধার একের পর এক বহু প্রাচীন শিবলিঙ্গ! চাঞ্চল্য এলাকায়
অজয়ের চর থেকে উদ্ধার একের পর এক বহু প্রাচীন শিবলিঙ্গ! চাঞ্চল্য এলাকায়

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনাকালেই ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। স্থান পশ্চিম বর্ধমান এলাকার দুর্গাপুরের ফরিদপুর ব্লকের নতুন ডাঙা এলাকার অজয় নদের তীর।

অন্যান্যদিনের মতো সেখানে বালি তুলতে গিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার যখন অজয় নদের চর থেকে বালি তুলছিলেন স্থানীয়রা, সেসময় ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। অলৌকিকও বলা যায়। চর থেকে উঠে আসে একের পর এক শিবলিঙ্গ। মোট দশটি শিবলিঙ্গ উদ্ধার হয়েছে সেখান থেকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৌতূহল, উত্তেজনার পাশাপাশি দেবতার মাহাত্ম্য নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বালি তুলতে গিয়ে স্থানীয়রা প্রথমে একটি শিবলিঙ্গ দেখতে পান। পরে এক এক করে আরও ৯ টি শিবলিঙ্গ উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া শিবলিঙ্গগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি শিবলিঙ্গ ভাঙ্গা অবস্থায় উদ্ধার হয়। এদিকে, খবর জানাজানি হতেই এলাকায় মানুষের ভিড় জমে যায়। উৎসাহী মানুষ ওই শিবলিঙ্গ দেখতে ভিড় করতে শুরু করেন। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ওই ধরনের শিবলিঙ্গ আগে দেখা যায়নি। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, করোনা ‘মহামারী’ থেকে রক্ষা করতে স্বয়ং মহাদেব আবির্ভূত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় পুজোপাট।

খবর পেয়ে, খয়রাশোল থানার এএসআই উদয় ভানু সাহা ও পুলিশকর্মীরা খবর পেয়ে মূর্তিগুলি উদ্ধার করে খয়রাশোল থানায় নিয়ে আসেন। কোথা থেকে এবং কী করে অজয় নদের চরে শিবলিঙ্গগুলি এলো, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। উল্লেখ্য, অজয় নদের চরে এর আগেও একাধিকবার নানান প্রাচীন জিনিস উদ্ধার হয়েছে। যেমন এর আগে খোঁজ পাওয়া গিয়েছে ব্রিটিশ আমলের নানান অস্ত্রশস্ত্র, এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিশাল আকৃতির গোলাও। আর এবার উদ্ধার হল প্রাচীন শিবলিঙ্গ।

এ প্রসঙ্গে ইতিহাসবিদ তথা বিশিষ্ট লেখক সুশীল ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, ওই এলাকা একসময় রাঢ়বঙ্গের রাজা ইছাই ঘোষের অধিকৃত এলাকা ছিল। মূর্তিগুলির গঠন দেখে তিনি তেমনটাই মনে করছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, সম্ভবত সেই সময় শিবলিঙ্গ উদ্ধার হওয়া জায়গাটিতে কোনও গ্রাম ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অজয় নদী নিজের পথ পরিবর্তন করায়, সেই গ্রাম এবং মন্দিরগুলি নদীগর্ভে চলে যায়। দীর্ঘদিন পর বালি খুঁড়তে গিয়ে, উদ্ধার হয়েছে এই শিবমূর্তিগুলি।