বসন্ত পঞ্চমী, হলুদ রঙ আর সরস্বতী পুজোর সম্পর্ক! জেনে নিন এই পুজোর হালহকিকত এবং খুঁটিনাটি

বসন্ত পঞ্চমী, হলুদ রঙ আর সরস্বতী পুজোর সম্পর্ক! জেনে নিন এই পুজোর হালহকিকত এবং খুঁটিনাটি
বসন্ত পঞ্চমী, হলুদ রঙ আর সরস্বতী পুজোর সম্পর্ক! জেনে নিন এই পুজোর হালহকিকত এবং খুঁটিনাটি

আর মাত্র ৬ দিন পরই সরস্বতী পুজো। শীতকালের অন্যতম উৎসব এই পুজোর জন্য সারাবছর অপেক্ষা করে থাকে পড়ুয়ারা। এই একটা দিন তারা নিজেদের মতো করে বিদ্যার দেবীর কাছে মনে ইচ্ছে প্রকাশ করতে পারে৷ তাই এদিনের উন্মাদনাও কিছুমাত্র কম নয়। প্রতিবছর মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে বন্দনা করা হয় দেবী সরস্বতীকে। এই সময় শীতের বিদায়বেলা এবং বসন্তের আগমনে যেন নবরূপে সেজে ওঠে প্রকৃতি। সেই কারণে দিনটিকে ‘বসন্ত পঞ্চমী’ নামেও ডাকা হয়ে থাকে।

দেবী সরস্বতীর অপর নাম বাগদেবী। তিনি জ্ঞান, বিদ্যা, সঙ্গীত ও শিল্পকলার দেবী। হিন্দু পৌরাণিক মতে, বসন্ত পঞ্চমীর দিনেই গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি করেছিলেন ব্রহ্মা। আর এই পবিত্র দিনেই দেবী সরস্বতীর জন্মও হয়। শোনা যায়, মহামুনি ব্যাসদেবও নাকি দীর্ঘ তপস্যা শেষে একই দিনে দেবীর আরাধনা করেছিলেন। সেদিন থেকেই এই দিনে দেবীর বন্দনা করা হয়ে থাকে।

সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রঙের পোশাক পরার প্রথা চালু রয়েছে বহুদিন ধরেই। বসন্ত পঞ্চমীর সঙ্গে হলুদ রঙ যেন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে। আসলে হলুদ রঙ হল সমৃদ্ধি, আলো ও ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। আর সরস্বতী পুজোর সময় শীত বিদায় নিয়ে বসন্তের সূচনা হয়। চারদিক যেন নবরূপে সেজে ওঠে। নিয়ে আসে আগামীর নতুন বার্তা। তাই সেই দিন হলুদ রঙে নিজেদের সাজিয়ে তোলেন পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষও।

আমাদের এই রাজ্যে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজে সরস্বতী পুজো আয়োজিত হয়। ছাত্রছাত্রীরা মিলিত ভাবে দেবীর আরাধনায় মেতে ওঠে। এই দিনটি তাদের কাছে বিশেষ এক দিন হিসাবেই পরিচিতি পায়। তবে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দেশের আরও বেশ কিছু রাজ্যেই বিশেষ ভাবে পালিত হয় বসন্ত পঞ্চমীর দিনটি। প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে ছোট ছোট প্যান্ডেলে পূজিতা হন দেবী সরস্বতী। ভোগ বিতরণও করা হয়। এছাড়াও বিহারে এই দিনে সূর্য দেবতার পুজোও করা হয়ে থাকে। দেশের আরেক রাজ্য পাঞ্জাবে এ দিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথাও লক্ষ্য করা যায়।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.