আমফান বিধ্বস্ত নদীয়ায় গেলেন সায়নী ঘোষ, পৌঁছে দিলেন ত্রাণ

নদীয়ায় আমফান ত্রাণ নিয়ে সায়নী ঘোষ

‘আমফানে তছনছ বাংলা। পাশে দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে। সংবাদমাধ্যমে যখন দেখলাম, করোনার দাপটে আমফানের তাণ্ডবে অসহায় রাজ্যবাসী তখন আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারিনি। আমি ও কয়েকজন বন্ধু মিলে শুরু করলাম “Bengal Above All Project”। আমাদের লক্ষ্য ত্রাণ নিয়ে বাংলার আনাচেকানাচে পৌঁছে দেওয়া। এই প্রোজেক্টের প্রথম কাজ “Nadia Relief”। এই প্রোজেক্টে আমরা হান্ড্রের্ড পার্সেন্ট সফল’, লকডাউন ডায়েরিতে সায়নী ঘোষের এটা নতুন সংযোজন, জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই।

সায়নীর বর্ণনায়, ‘আমরা গিয়েছিলাম করিমপুরের নদীয়া জেলার তেহট্টে। আগেই খবর পেয়েছিলাম, সেখানে এমন কিছু পরিবারের কথা যাঁরা বেশির ভাগই বয়স্ক এবং আমফানের দাপটে বিপর্যস্ত। সেইরকম ৪০টি পরিবারের তালিকা তৈরি করে পৌঁছে যাই ধরাদহ, নদীডাঙ্গা এবং নারায়ণপুরে। ত্রাণের তালিকায় ছিল আটা, ডাল, চাল, আলু, তেল, ছাতু, সয়াবিন, চিড়ে, হরলিক্স বিস্কুট, স্যানিটারি ন্যাপকিন, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডমেড মাস্ক, সাবান। এছাড়াও বেসিক হাইজিন কিট, রেশন কিট দেওয়া হয়েছে প্রত্যেককে।

ঘড়ির কাঁটা ভোর ৬টা ছুঁতেই বেরিয়ে পড়েন সায়নী, ডিজাইনার জয়িতা রায়, অভিনেতা কৌশিক রায়, সঙ্গীত পরিচালক ও গীতিকার প্রসেন, অঙ্কিতা চৌধুরী ও দীপ বাত্রা। জয়িতা একা হাতে তৈরি করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং গামছার মাস্ক। ১৩ ঘণ্টা ধরে ত্রাণ বিলির পর সবাই ফিরে রাত সাড়ে এগারোটায়। তখনও তাঁরা একটুও ক্লান্ত নন!

সায়নীর কথায়, স্থানীয় প্রশাসন আমাদের ভীষণভাবে সাহায্য করেছে। তাই আমরা খুবই ভালোভাবে কাজগুলো করতে পেরেছি। প্রথমে একটা স্কুল-এ কিছু পরিবারকে নিয়ে আসা হয়েছিল। কারণ, প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তায় গাছ পড়ে থাকায় পৌঁছোনো সম্ভব হয়নি। বাকি ত্রাণ তুলে দেওা হয়েছে পঞ্চায়েতের হাতে।

দিন কয়েকের মধ্যেই সায়নীরা যাবেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং-এর অন্তর্গত “দীঘির পার”-এ। যেখানে ৫০টা পরিবারকে তাঁরা দেবেন সারা মাসের রেশন। আরও ১০টি জায়গায় রেশন দেবার পরিকল্পনা আছে তাঁদের।

আরও পড়ুনঃ  বিতর্ক উস্কে কালো পোশাকে বাথটবে বসে ছবি পোস্ট করলেন নুসরত জাহান

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.