অপেক্ষার অবসান! এবার WhatsApp-এ অর্ডার করতে পারবেন বাঙালি বিজ্ঞানীর বানানো ‘পকেট ভেন্টিলেটর’

অপেক্ষার অবসান! এবার WhatsApp-এ অর্ডার করতে পারবেন বাঙালি বিজ্ঞানীর বানানো 'পকেট ভেন্টিলেটর'
অপেক্ষার অবসান! এবার WhatsApp-এ অর্ডার করতে পারবেন বাঙালি বিজ্ঞানীর বানানো 'পকেট ভেন্টিলেটর'

কোভিড রোগীদের সুবিধার জন্য সম্প্রতি এক ছোট্ট ‘পকেট ভেন্টিলেটর’ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন বাঙালি বিজ্ঞানী ডা. রামেন্দ্রলাল মুখোপাধ্যায়। এবার অপেক্ষার অবসান। শীঘ্রই বাজারে আসতে চলেছে সেই ভেন্টিলেটর। যার দাম ‘মাত্র’ ১২ হাজার টাকা। এবার WhatsApp-এর মাধ্যমে অর্ডার করলেই বাড়িতে বসে হাতে পেয়ে যাবেন তা। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এমন কথাই জানালেন স্বয়ং ডাঃ মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে রয়েছে অর্ডারের বিস্তারিত পদ্ধতিও।

কীভাবে অর্ডার করবেন এই ‘লিলিপুট’ পকেট ভেন্টিলেটর? ফেসবুকে ডাঃ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভেন্টিলেটরের প্রথম পর্বের কাজ এই সপ্তাহেই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। যাঁরা একদম প্রথমেই বলে রেখেছেন বা অর্ডার দিয়েছেন শুধুমাত্র তাঁরাই আপাতত ভেন্টিলেটর পাবেন। এরপরই পরবর্তী পর্বের কাজ শুরু হয়ে যাবে। এরপর কেউ যদি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করতে চান তাহলে, ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের নিজস্ব WhatsApp নম্বর 9874210916-এ নিজের নাম, ঠিকানা এবং অর্ডার লিখে জানাবেন। একইসঙ্গে ডাঃ মুখোপাধ্যায় এও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি ফেসবুকের মেসেঞ্জার ব্যবহার করেন না। তাই সেখানে মেসেজ করলে কোনও লাভ হবে না। শুধুমাত্র WhatsApp-এর মাধ্যমেই বুকিং নেওয়া হবে। কাউকে ফোন না করারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

অপেক্ষার অবসান! এবার WhatsApp-এ অর্ডার করতে পারবেন বাঙালি বিজ্ঞানীর বানানো 'পকেট ভেন্টিলেটর'
অপেক্ষার অবসান! এবার WhatsApp-এ অর্ডার করতে পারবেন বাঙালি বিজ্ঞানীর বানানো ‘পকেট ভেন্টিলেটর’

প্রসঙ্গত, মূলত কোভিড আক্রান্তদের জন্য বানানো এই ভেন্টিলেটর হাসপাতালে ব্যবহৃত সিপ অ্যাপ (কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার) যন্ত্রের ভালো বিকল্প। বর্তমানে দেশ তথা রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে ভেন্টিলেটরের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই ডাঃ রামেন্দ্রবাবুর এই আবিষ্কার। দেহে হঠাৎ করে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করলে এই যন্ত্র দিন কয়েক তা সামলে দিতে পারবে বলেই জানিয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানীটি।

উল্লেখ্য, এই ভেন্টিলেটরের ওজন মাত্র ২৫০ গ্রাম। একবার চার্জ দিলে চলে ন্যূনতম ৮ ঘণ্টা। মোবাইলের সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড টাইপ ২ চার্জার দিয়ে অনায়াসে চার্জও দেওয়া যায়। তাই যেখানে সেখানে নিয়ে যাওয়ার কোনও সমস্যা নেই। যন্ত্রটি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত- পাওয়ার ইউনিট ও মাউথ পিস যুক্ত ভেন্টিলেটর ইউনিট। যন্ত্রের সুইচ অন হলে আল্ট্রা ভায়োলেট চেম্বার (UV chamber) দিয়ে বাইরের বাতাস বিশুদ্ধ হয়ে সজোরে ফুসফুসে যায়। বাতাসে কোনও জীবাণু থাকলে চেম্বারের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় তা মরে যায়। এছাড়াও রোগী যখন নিঃশ্বাস ছাড়েন, তখনও একই কায়দায় আল্ট্রা ভায়োলেটে শুদ্ধ হয়ে যায় ওই বাতাস। ফলে রোগী আশেপাশে থাকা ডাক্তার বা নার্স বা অন্য মানুষজনের কোনও রকম সমস্যা হয় না। তাই প্রয়োজন হলে দেরি না করেই অর্ডার করে দিতে পারেন বাঙালি বিজ্ঞানীটির বানানো এই অভিনব ‘লিলিপুট’ ভেন্টিলেটর।