ভবানীপুরে মমতার ভোট ব্যবধান ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী! সপ্তম রাউন্ড শেষে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

ভবানীপুরে মমতার ভোট ব্যবধান ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী! সপ্তম রাউন্ড শেষে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?
ভবানীপুরে মমতার ভোট ব্যবধান ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী! সপ্তম রাউন্ড শেষে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ ভবানীপুরের উপনির্বাচন-সহ রাজ্যের তিন কেন্দ্রের ভোট গণনা। ইতিমধ্যেই তা শুরু হয়ে গেছে। জঙ্গিপুর এবং সামশেরগঞ্জের সাধারণ নির্বাচনের দিকে নজর যেমন রয়েছে, ঠিক সেই ভাবেই তুলনামুলকভাবে বেশি নজর রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে। এই লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সম্মানের লড়াই। এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিররেওয়াল এবং বাম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস।

আজই নিশ্চিত হয়ে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ। তৃণমূল কংগ্রেস মমতার জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। অপরদিকে বিজেপির দাবি, ‘ভবানীপুরে ভাল লড়াই হবে।‘ উল্লেখ্য, একুশের ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি পদত্যাগ করেন এবং তাঁর জায়গায় ভোটে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিপরীতে হারার পরই ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী তিনি।

এদিকে, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এগিয়ে থাকার ব্যবধান ক্রমশ বেড়েই চলেছে। প্রথম রাউন্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেয়েছেন ৩,৬৮০টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল পেয়েছেন ৮৮১ টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী সঞ্জীব বিশ্বাস পেয়েছেন মাত্র ৮৫টি ভোট। এমনটাই জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। তৃতীয় রাউন্ডের গণনা শেষে ৪ হাজার ৬০০ ভোট। তৃতীয় রাউন্ডের শেষে মমতা পেয়েছেন ৯,৯৭৪টি ভোট। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৩,৮২৮ ভোট। আর সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস পেয়েছেন ২৫০টি ভোট। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে যথাক্রমে মমতা পান ৩,৬৮০ এবং ৫,৩৩৩ টি ভোট। তৃতীয় রাউন্ডের শেষে দেখা গেল এক লাফে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বীরা কার্যত তাঁর ধারেকাছেই নেই। চতুর্থ রাউন্ডে দেখা গেল ব্যবধান আরও বেড়েছে। ১২, ৪৩৫ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ষষ্ঠ রাউন্ডে ২৩,৫০০ ভোটে এগিয়ে মমতা। আর সপ্তম রাউন্ডের গণনা শেষে মমতা এগিয়ে ২৫,৩১৪ ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন। সপ্তম রাউন্ড শেষে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৩১ হাজার ৩৩। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৭১৯। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩১ হাজার ৬৪৫ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

ভবানীপুর কেন্দ্রে চিন্তার কারণ ছিল মুলত ৭০ এবং ৭৪ নম্বর বুথ নিয়ে। কারণ, ভবানীপুরের ৮ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭০ এবং ৭৪-এ সবথেকে বেশি নজর ছিল কারণ এখানে প্রচুর অবাংলাভাষী ভোটার রয়েছেন। বিজেপি ভোট প্রচারে নেমে টার্গেট করে ছিল এদেরই। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার শুরু করেন ভবানীপুরকে মিনি ইন্ডিয়া বলে। প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূল কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়ে আসেন ভোটের দিন সকালে ভোটদান প্রক্রিয়া কিছুটা হলেও ক্রমেই দেখা যায় মানুষ বুথমুখী হচ্ছেন।

তবে, ভোট গণনার দিনে অনেকটাই স্বস্তিতে তৃণমূল। কারণ দলের অন্দরে ওপেন সিক্রেট, ভোট ভালো হয়েছে। এমনকি ৭০ এবং ৭৪ নম্বর বুথেও ভোট পড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। তাই তৃণমূল জয় নিয়ে ভাবছে না। জোড়াফুল শিবিরের মুল লক্ষ্য জয়ের ব্যবধান বাড়ানো। তৃণমূলের দাবি, দলের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রামের ঘটনার জবাব দেওয়া হবে আজ। এদিন সকালে ফিরহাদ হাকিম বলেন, হাসতে হাসতে জিতবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবধান হবে ৫০ থেকে ৮০ হাজার।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল ২৮ হাজারের কিছু বেশি৷ তার মধ্যে এই ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই একুশ হাজারের বেশি ভোটের লিড পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷ এখন পর্যন্ত গণনার ফল অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্রে একুশের জয়ের সেই ব্যবধ্যান পেরিয়ে গেছেন। শেষপর্যন্ত কী দাঁড়ায়? ব্যবধান বাড়বে, নাকি কমবে, নাকি পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কথাই সত্যি হবে, ভোট গণনার শেষেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।