এক ঘুমে এক সপ্তাহ! খোঁজ মিলল এ যুগের কুম্ভকর্ণের!

এক ঘুমে এক সপ্তাহ! খোঁজ মিলল এ যুগের কুম্ভকর্ণের!
এক ঘুমে এক সপ্তাহ! খোঁজ মিলল এ যুগের কুম্ভকর্ণের!

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ রামায়ণের কুম্ভকর্ণকে আমরা সকলেই চিনি। রামায়ণের এই চরিত্রের সঙ্গে আমরা কমবেশি সকলেই পরিচিত। কুম্ভকর্ণ টানা ৬ মাস ঘুমতেন। আবার যখন তাঁর ঘুম ভাঙত, সামনে যা পেতেন, তাই খেয়ে ফেলতেন। কঠিন সাধনার বলে, তিনি এই বর পেয়েছিলেন প্রজাপতি ব্রহ্মার কাছ থেকে। যদিও ঘুমের বর ভুলবশতই চাওয়া হয়ে গিয়েছিল তাঁর। এর জেরেই ৬ মাস ঘুমিয়ে থাকতেন কুম্ভকর্ণ।

রামায়ণের চরিত্রের বাইরেও, বাস্তবের দুনিয়াতেও এমনই এক কুম্ভকর্ণের খোঁজ পাওয়া গেছে সম্প্রতি। তিনি ৬ মাস না হলেও, টানা এক সপ্তাহ, কখনও কখনও ৪দিনও টানা ঘুমিয়ে থাকেন। আবার ঘুম ভাঙলে একাই ১০ জনের খাবার খেয়ে ফেলেন।

বাস্তবের এহেন কুম্ভকর্ণের নিবাস বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে। তাঁর এই আচরণের কারণে তিনি স্থানীয়দের কাছে ‘কলির কুম্ভকর্ণ’ নামে পরিচিত। অবশ্য তাঁর একটি পিতৃপ্রদত্ত নাম আছে, তা হল ভোম্বল শীল।

স্থানীয়দের কাছে তিনি কুম্ভকর্ণ হলেও, বা কুম্ভকর্ণের মতো তাঁর আচরণ হলেও, আদতে মোটেও তাঁর চেহারা কুম্ভকর্ণের মতো নয় একেবারেই। বরং রামায়ণের বর্ণিত কুম্ভকর্ণের চেহারার ঠিক উল্টো বাস্তবের কুম্ভকর্ণ। শীর্ণকায় চেহারা ভোম্বল শীল-এর। বিগত ২০ বছর ধরে, তিনি এভাবেই অস্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। যদিও, ছোটবেলায় তাঁর আচরণ একদমই আর পাঁচটা স্বাভাবিক শিশুর মতোই ছিল। এরপর ১৫ বছর বয়স থেকে আচমকাই তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকত্ব ধরা পড়ে। ঘুমের পরিমাণ বাড়তেই থাকে অস্বাভাবিক হারে।

এখন তো এমন অবস্থা যে, টানা ৭ দিন ঘুমিয়ে কাটান তিনি। যখন ঘুমিয়ে থাকেন, তখন জলও খান না। মাঝে মধ্যে শৌচকর্মের জন্য উঠলেও, সেখানে গিয়েও ঘুমিয়ে পড়েন। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই বছর ৩০ এর ভোম্বল রোজ স্নান করতে পারেন না। আবার যখন ঘুমে থেকে জেগে উঠে স্নান করেন, তখন অনেকটা সময় জলে কাটান।

ভোম্বল-এর এই অস্বাভাবিক জীবনযাত্রার কারণে, তাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছেও গিয়েছিল তাঁর পরিবার। চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে, এটা এক ধরনের মানসিক রোগ। দ্রুত চিকিৎসা করালে, এই রোগ থেকে তাঁর মুক্তি মিলতে পারে। এই রোগের কারণে খিদে এবং ঘুম দুটোই খুব বেশি পায়।

কিন্তু চিকিৎসার খরচও অনেক। এদিকে ভোম্বল-এর পরিবার খুবই দরিদ্র। তাঁদের ভোম্বলের চিকিৎসা করাবার ক্ষমতা নেই। সেই কারণেই গতানুগতিকভাবেই চলছে ভোম্বলের জীবন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.