আগামিকাল ১২ ঘণ্টার ভারত বনধ! প্রভাব পড়তে পারে জনজীবনে

আগামিকাল ১২ ঘণ্টার ভারত বনধ! প্রভাব পড়তে পারে জনজীবনে
আগামিকাল ১২ ঘণ্টার ভারত বনধ! প্রভাব পড়তে পারে জনজীবনে / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কেন্দ্রের নয়া ৩ কৃষি আইনের বিরোধিতায় কৃষক আন্দোলন এখন অব্যাহত। আর এবার কেন্দ্রের মোদী সরকারের নয়া তিনটি কৃষি আইনের বিরোধিতায় অন্য মাত্রা যোগ করতে চাইছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা বা এসকেএম।

এই জন্যই কেন্দ্রীয় কৃষক সংগঠনগুলির সংযুক্ত মোর্চা ২৬ মার্চ ১২ ঘণ্টার ভারত বনধের ডাক দিয়েছে। এই বনধের কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গোটা দেশে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু বনধের ডাক দেওয়াই নয়, এর পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এই বনধ সফল করার অনুরোধও জানিয়েছেন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতৃবৃন্দ। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার পক্ষ থেকে জারি করা এক আবেদনে বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের দাবি কোনোভাবেই মানতে রাজি নয়। শুধু তাই নয়, দিল্লির সীমানায় ৪ মাস ব্যাপী চলা কৃষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর প্রতিবাদস্বরূপ শুক্রবার, ২৬ মার্চ সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভারত বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই বনধে রেল, সড়ক, বাজার, দোকানপাট বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে। তবে, দেশের মধ্যে যে যে জায়গায় ভোটের কাজ চলছে, সেই জায়গাগুলিকে এই বনধের আওতার বাইরে রাখার কথাও বলা হয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার জারি করা আবেদনে।

এদিকে আগামীকালের ভারত বনধে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বনধে কংগ্রেস এবং অন্ধ্রপ্রদেশের জগনমোহন রেড্ডির পার্টির মতো কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই সমর্থন জানিয়েছে। যার ফলে এই বনধ এক অন্যমাত্রা পেয়েছে।

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের সভাপতি রাকেশ টিকাইত সম্প্রতি দাবি করেছেন, কেন্দ্রের মোদী সরকার আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার প্রয়াস চালাচ্ছে। যদিও, তাঁরা সফল হতে পারেনি।’ তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ‘এই আন্দোলন আরও দীর্ঘ হবে। দিল্লির পাশাপাশি এই আন্দোলন দেশের অন্য শহরগুলিতেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যতদিন না এই আইন তুলে নিয়ে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন জারি থাকবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেন্দ্রের আনা নয়া তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ ৪ মাস ধরে দিল্লি সীমান্তে আন্দোলন করছেন কৃষকরা। দফায় দফায় কৃষক সংগঠন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বৈঠক হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও রফাসূত্র বেরিয়ে আসেনি এই বৈঠকগুলি থেকে। এখনও পর্যন্ত ১১ দফা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু দু’পক্ষই নিজের নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

কেন্দ্র সরকার এই আইন প্রত্যাহারের প্রস্তাবে রাজি না হলেও, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত কৃষকদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, এই নতুন কৃষি আইন ১২ থেকে ১৮ মাসের জন্য স্থগিত রাখা হবে। তবে, এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি কৃষক সংগঠনগুলি। ফলে পরিস্থিতি যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.