প্রকাশিত হল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার, বাংলার মনজয়ের লক্ষ্যে ঢালাও প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত হল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার, বাংলার মনজয়ের লক্ষ্যে ঢালাও প্রতিশ্রুতি
প্রকাশিত হল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার, বাংলার মনজয়ের লক্ষ্যে ঢালাও প্রতিশ্রুতি / ছবি সৌজন্যে- Screengrab from Facebook Video Posted By @BJP4Bengal

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ অবশেষে আজ প্রকাশিত হল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একুশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে, বাংলার মানুষের মন জয়ের লক্ষ্যে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে রাখা হয়েছে একাধিক চমক।

এদিন বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন যে, সরকারের থেকে সাধারণ মানুষ কী চান? সে ব্যাপারে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের মতামত নিয়ে বিজেপির ইস্তাহার তৈরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইস্তাহার প্রকাশ করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন যে, আগামিদিনে বিজেপি কী করতে চায়, তা তুলে ধরা হয়েছে এই সংকল্পপত্রে। তিনি আরও বলেন যে, বিজেপি সবসময় সংকল্পপত্রকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়েছে। এর সঙ্গে ভবিষ্যতে কীভাবে সোনার বাংলা নির্মাণ করা হবে, তা এই সংকল্পপত্রে আছে। অমিত শাহ বলেন যে, সোনার বাংলা কোনও অলীক কল্পনা নয়।

এদিন বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশ করতে গিয়েও একাধিক প্রসঙ্গে বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সমালোচনা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন যে, অতীতে বাংলা ভারতের থেকে এগিয়ে থাকত। বাংলা থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। জনগণমন, বন্দেমাতরমের সৃষ্টি হয়েছে বাংলার মাটিতেই। শিক্ষা, বিজ্ঞান, সাহিত্য সব ক্ষেত্রে বাংলা এগিয়ে ছিল। কিন্তু গত ৭৩ বছর ধরে বাংলা একটু একটু করে পিছিয়ে গিয়েছে। ৬৭ সালের পর থেকে বাম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন বাংলাকে পিছিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অমিত শাহ।

তিনি আরও বলেন যে, নারীসুরক্ষায় বাংলা আজ পিছিয়ে পড়েছে। গত ১০ বছরে তৃণমূলের কুশাসনে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। তোষণ, দুর্নীতি, গরুপাচার, অনুপ্রবেশকে ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের রাজনীতিকরণ করেছেন। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত ভোটে মানুষ ভোট দিতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙেছেন তিনি।

ইস্তাহার সম্পর্কে কী কী রয়েছে সে সম্পর্কে বিশদে বলতে গিয়ে তিনি বলেন যে, ‘আমি ব্যাবসায়ী, ভরসা রাখুন বাংলার বাজেটে ১৫ শতাংশ বেশি বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কী কী প্রতিশ্রুতি রয়েছে বিজেপির এই ইস্তাহারে।

বিজেপির ইস্তাহারে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে, বাংলায় বিজেপির সরকার এলে।

৭৫ লক্ষ কৃষককে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাঙ্কাউন্ট, তার সঙ্গে রাজ্য সরকার ৪ হাজার যোগ করে ১০ হাজার দেবে কৃষকদের।

মৎস্যজীবীদের বছরে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

ইস্তাহারে বলা হয়েছে, বিজেপির সরকার এলে, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত যোজনাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তকে সুরক্ষিত করা হবে। সীমান্তে পরিখা, সিসিটিভি, বর্জার চেকপোস্ট করা হবে।

বাংলায় উৎসব পালনে আর কারও অনুমতিও লাগবে না। দুর্গাপুজো ও সরস্বতী পুজোর জন্য আদালতে যেতে হবে না কাউকে।

৭০ বছর ধরে যে শরণার্থীরা এখানে আছেন। তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

শরণার্থী পরিবারকে ৫ বছর ধরে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে, ওবিসি সংরক্ষণে মাহিষ্য, তিলিদের আনা হবে।

সকল মহিলাদের জন্য কেজি থেকে পিজি বিনা পয়সায় পড়াশুনো করার সুযোগ দেওয়া হবে।

সরকারি বাসে যাতায়াতের জন্য মহিলাদের টিকিট লাগবে না।

তফসিলি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি ও আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা পরিবারে কন্যাসন্তান জন্ম নিলেই ৫০ হাজার টাকার বন্ড, ঘোষণা করা হয়েছে বিজেপির ইস্তাহারে।

১৮ বছর বয়সের পরে বিয়ে হলেই, ওই শ্রেণির পরিবারের মহিলাদের জন্য ১ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট।

রাজ্য পুলিশে ৯টি মহিলা ব্যাটেলিয়ন তৈরির আশ্বাস রয়েছে ইস্তাহারে।

রাজ্য রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীতে ৩টি মহিলা ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে।

প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য আলাদা হেল্প ডেস্ক হবে, যার দায়িত্বে থাকবেন মহিলারাই।

‘আত্মনির্ভর মহিলা’ প্রকল্পের আওতায় মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।

মহিলাদের এককালীন ২০ হাজার টাকা করে ঋণ দেবে সরকার।

বিধবা ভাতা মাসিক ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হবে। প্রসূতিদের এখন অনুদান ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার টাকা করা হবে।

স্কুল, কলেজে, বাজারে ৫০ হাজার সেনেটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন থাকবে।

১ টাকাতেই মিলবে সেনেটারি ন্যাপকিন।

শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে প্রথম মন্ত্রিসভাতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভূমিহীন কৃষকদের ৪ হাজার টাকা করে সাহায্য করা হবে।

বাংলা ৩টি এইমস নির্মাণ করা হবে।

পরিবারের এক সদস্যকে রোজগার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সরকার আসার পরেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইস্তাহারে।

মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের আওতায় দুর্নীতি বিরোধী সেল তৈরি করা হবে।

রাজ্যের সর্বত্র অন্নপূর্ণা ক্যান্টিনে ৫ টাকায় খাবার মিলবে।

রেশনে ১ টাকা কেজি গম, ৩০ টাকা কেজি ডাল, ৩ টাকা কেজি নুন এবং ৫ টাকা কেজি চিনি বিক্রি হবে।

১০০ দিনের কাজ বে়ড়ে করা হবে ২০০ দিন।

প্রতিটি ব্লকে একলব্য মডেল আবাসিক স্কুল নির্মাণ করা হবে।

শৈলেন মান্নার নামে রাজ্যে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হবে।

পুরোহিতদের মাসে ৩,০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।

৬০ বছরের উপর বয়স্ক কীর্তন গায়কদের মাসে ৩,০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।

রাজ্যে ৯টি পর্যটন সার্কিট গঠন করা হবে।

কলকাতাকে ‘ফিউচার সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মেট্রো রেল চলবে শ্রীরামপুর, ধূলাগড় ও কল্যাণী পর্যন্ত।

১১ হাজার কোটি টাকায় সোনার বাংলা ফান্ড গঠন করা হবে।

বালিকা আলো প্রকল্পে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষার জন্য প্রকল্প আনা হবে।

রাজ্যের সব চাকরির জন্য কমন এলিজিবিলিটি টেস্ট হবে।

রাজ্যের জন্য হুইসল ব্লোয়ার আইন আনা হবে।

ক্ষুদ্র এবং কুটির শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ ছাড় দেওয়া হবে।

পুরুলিয়ায় বিমানবন্দ তৈরি করা হবে।

সরকারি ভাষা হিসাবে বাংলা ব্যবহারের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হবে।

ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিক্যাল কোর্স পড়ানো হবে বাংলায়।

নয়া পর্যটন নীতি তৈরি করা হবে, ১ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক ফান্ড হবে।

রাজ্যে আলাদা করে ৯টি পর্যটন সার্কিট তৈরি করা হবে।

সাঁওতাল, ভুমিজ-সহ অন্যান্য উপজাতিদের নিয়ে পৃথক ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গঠন করা হবে।

চা শ্রমিকদের দৈনিক ৩৫০ টাকা মজুরি দেওয়া হবে।

বাংলায় বিজেপি সরকার এলে প্রণয়ন করা হবে জাতীয় শিক্ষানীতি।

কলকাতাকে এশিয়ার স্মার্টেস্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার কোথাও বলা হয়েছে।

জেলার শহরগুলির সামগ্রিক মানোন্নয়ন করা হবে।

বিজেপির ইস্তাহারে মাছ চাষের জন্য পৃথক দফতর তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

দিঘা-ডুয়ার্স-দার্জিলিং-কলকাতা, রাঢ়বঙ্গ ও সুন্দরবনে ৬টি নতুন পর্যটন সার্কিট তৈরি করা হবে।

শহরের সমস্ত নিম্নবিত্ত এলাকায় তৈরি করা হবে পাকা বাড়ি। আগামী পাঁচ বছরে গ্রামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় সমস্ত বাড়িকে পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এরকমই একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে। এদিন ইস্তাহার প্রসঙ্গে বলার পর, শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন যে, ‘এর পূর্বে বামকে দিয়েছেন ৩৪ বছর, তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসকেও সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এরা সবাই বাংলাকে স্বাধীনতার পর থেকে যেখানে ছিল, সেখান থেকে পিছিয়ে দিয়েছে একটু একটু করে। এবার বিজেপিকে ৫ টা বছর দিন। সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি আমরা পালন করব। সুরক্ষিত বাংলা গড়ার কথা দিচ্ছি’।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্ভয়ে ভোট দিন, গুণ্ডাদের ভয় পাবেন না। এবার তারা কিছু করতে পারবে না। বিজেপির সব প্রার্থীকে জিতিয়ে বাংলায় নতুন সরকার গড়তে সাহায্য করুন।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.