উপনির্বাচনের ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে ‘ভুয়ো ভোটার’, অভিযোগ বিজেপির! খালসা হাইস্কুলে তুমুল উত্তেজনা

উপনির্বাচনের ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে ‘ভুয়ো ভোটার’, অভিযোগ বিজেপির! খালসা হাইস্কুলে তুমুল উত্তেজনা
উপনির্বাচনের ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে ‘ভুয়ো ভোটার’, অভিযোগ বিজেপির! খালসা হাইস্কুলে তুমুল উত্তেজনা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ ভবানীপুরে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এই নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন। ভবানীপুর আসন ছাড়াও মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে। তবে, নজরে ভবানীপুর কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এবং বাম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে পরাজিত হন মমতা। সংবিধান অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ট দলের হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসলেও ছয় মাসের মধ্যে মমতাকে রাজ্যের যেকোনো একটি বিধানসভা আসনে জিতে আসতে হবে। সেই মর্মেই ভবানীপুর আসনে জয়ী রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করেন। সেই আসন থেকেই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোট হয়নি মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। তাই ওই দুটি কেন্দ্রে হচ্ছে উপনির্বাচন। ভবানীপুরের উপনির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকাজুড়ে।

এদিকে, এদিন বেলা গড়াতেই ভবানীপুরে ভোটকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খালসা হাইস্কুলে ভুয়ো ভোটার ঘিরে অশান্তি বাধে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভুয়ো ভোটার এনে ভোট করাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই অভিযোগের বিরুদ্ধে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, ভুয়ো ভোটার এনে অশান্তি ছড়াচ্ছে বিজেপিই। এই নিয়েই ভোটকেন্দ্রের ভিতর মারামারি শুরু হয়ে যায়। এক যুবককে চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক মারধরের অভিযোগও উঠেছে। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সংখ্যাও বাড়ানো হয়। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই কেন্দ্রে তাঁদের প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল খালসা হাইস্কুলে ভোট কেন্দ্রের ভিতরে গিয়ে দেখেন, এক যুবক সেখানে রয়েছেন। তাঁর হাতে কোনও রকম পরিচয়পত্র নেই, অন্যান্য কোনও পরিচয়পত্র নেই। অথচ তিনি ভোট দিতে ঢুকেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। অভিযোগ ওঠে, এরপরেই ওই যুবককে বিজেপির লোকজন মারতে মারতে বাইরে বের করে আনেন। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ওই যুবক তৃণমূলের লোক।

বিজেপির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবিটে বলা হয়েছে, বিজেপি শান্তিপূর্ণ ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করতে এবং অশান্তি করার উদ্দেশ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তৃণমূলের আরও দাবি, যে ছেলেটিকে মারধর করা হয়েছে, বিজেপির লোকজন তাঁকে অনেকক্ষণ ধরে আটকে রাখে। এর সঙ্গে ভুয়ো ভোটারের কোনও সম্পর্ক নেই। সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান পর্ব চলছিল। বিজেপির প্রার্থী ঢুকতেই অশান্তি শুরু হয়।

অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের বক্তব্য, গোটা রাজ্যটাই ভুয়ো আইপিএস, পুলিশ আধিকারিকে ভর্তি হয়ে রয়েছে। এখানেও তা হচ্ছে। আবার বিজেপির এও অভিযোগ, বহুতলে ভোটারদের আটকে রাখা হচ্ছে। সেই কারণেই সকাল থেকে ভোটের হারও অত্যন্ত খারাপ। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত অবধি ভবানীপুরে ভোটের যে শতাংশ, তা মাত্র ৭.৫৭ শতাংশ। আবার ভবানীপুরে সকাল ১১ টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ২১.৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে, জঙ্গিপুরে ৩৬.১১ শতাংশ এবং সামশেরগঞ্জে ভোট পড়েছে ৪০.২৩ শতাংশ। এদিন বেলা ১টা অবধি ভবানীপুরে ভোট পড়েছে ৩৫.৯৭ শতাংশ। সামশেরগঞ্জে ভোটের হার ৫৭.১৫ শতাংশ। জঙ্গিপুরে ভোট পড়েছে ৫৩.৭৮ শতাংশ। এদিকে, ভুয়ো ভোটার নিয়ে উত্তেজনার পরই খালসা হাইস্কুলে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছল জয়েন্ট সিপি নীলাঞ্জন বিশ্বাস। এছাড়াও ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকও।