দেশ

মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯, নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে উদ্ধারকাজ

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ যা আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ঠিক তাই হল। মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৩৯।

সোমবার ভোররাত ৩.৪০ মিনিট নাগাদ মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে একটি বহুতল ভেঙে পড়ে। এই ঘটনার পর, এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কর্পোরেশনের এক আধিকারিক জানিয়েছিলেন যে, ধামানকার নাকার কাছে নারপোলির পটেল পাটেল কম্পাউন্ডের একটি বিল্ডিং ভেঙে পড়ে। সেই সময় বহুতলের সকলেই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পৌঁছে যায় ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স, দমকল এবং পুলিশ। সেদিনই প্রাথমিক অবস্থায় ৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

যদিও সুত্রের খবর, বহুতল ভেঙে পড়ার পর, স্থানীয়রাই উদ্যোগ নিয়ে প্রায় ২০ জনকে জীবন্ত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে বার করে আনতে সক্ষম হন। এরপর ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স- এর তৎপরতায় এক শিশু-সহ এখনও পর্যন্ত ৩১ জনকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে, ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আরও অনেকেই আটকে থাকতে পারেন। তাই মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে, যতই ধ্বংস্তুপ সরানো হবে।

সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায়, বুধবার ধ্বংসাস্তূপের ভিতর থেকে আরও ৯ জনের দেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৯। এই তথ্য জানিয়েছেন মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের মুখপাত্র। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ১৫ টি শিশুর দেহ এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এখনও অনেকেরই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় আহতদের মুম্বইয়ের কালওয়া ও জেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স, দমকল, পুলিশ ও থানে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের রিজিওনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেলের বাহিনী। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ধ্বংসাস্তূপের ভিতর এখনও অনেকেই আটকে রয়েছেন। ফলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ।

এদিকে মহারাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রবল বর্ষণের কারণে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজেও সমস্যা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আরএমডিসি চিফ সন্তোষ কদম। মঙ্গলবার বিল্ডিংয়ের দেওয়াল ভেঙে দিতে বাধ্য হয়েছে উদ্ধারকারী দল। ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে জেসিবি ও পোকল্যান্ড মেশিন।

জানা যাচ্ছে যে, ১৯৮৪ সালে এই বহুতলটি নির্মিত হয়। সোমবার ভোররাতে এই বহুতলের অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়ে। উল্লেখ্য, আগেই এই বিল্ডিংটি বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। নোটিস পাওয়ার পর অনেকেই এই বাড়িটি ছেড়ে চলে যান অন্যত্র। কিন্তু এরপরেও বেশ কয়েকটি পরিবার এখনও সেখানেই থাকছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.

Back to top button