অভাব নিত্যসঙ্গী! সুস্থভাবে জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই নেই! বিজেপির দরিদ্রতম প্রার্থী চন্দনা বাউরি

অভাব নিত্যসঙ্গী! সুস্থভাবে জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই নেই! বিজেপির দরিদ্রতম প্রার্থী চন্দনা বাউরি
অভাব নিত্যসঙ্গী! সুস্থভাবে জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই নেই! বিজেপির দরিদ্রতম প্রার্থী চন্দনা বাউরি / ছবি সৌজন্যে- Facebook Post By @Chandana Bauri

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ নির্বাচনের ময়দানে যারা নামেন, তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সঙ্গে প্রার্থীকে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব দেখাতে হয়। অনেক প্রার্থীর সম্পত্তির পরিমাণ সাধারণের ‘চোখ কপালে তোলার’ জন্য যথেষ্টর থেকেও বেশি হয়। আবার কারও সম্পত্তির পরিমাণ ঠিকঠাক।

কিন্তু এই প্রার্থী তাঁদের সবার থেকে আলাদা। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বলতে তেমন কিছুই নেই। তবে আছে ‘অভাব’। ইনি হলেন এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী চন্দনা বাউরি। এবারের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ‘দরিদ্রতম’ মুখ।

সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। ২৪ ঘণ্টা তার সঙ্গেই ওঠাবসা ও সহবাস। স্বামী দিনমজুর। ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে বাস। ঘরে জিনিসপত্র বলতে, একপাশে একটা আলুমিনিয়ামের বাক্স, একটা টেবিল, অন্যদিকে পাশাপাশি রাখা কয়েকটা কাঠের তক্তা, যেটাকে ‘খাট’ বা ‘বিছানা’ হিসেবে ব্যবহার করেন ওরা। আর এদিক-ওদিক ছড়ানো কিছু বইখাতা। এর বাইরে দু’কামরার ঘরে চোখে পড়ার মতো তেমন কিছুই নেই। এই সম্বল চন্দনা বাউরির।

হলফনামা অনুযায়ী, চন্দনার মোট স্থাবর সম্পত্তি ৩১ হাজার ৯৮৫ টাকা। আর স্বামীর শ্রাবণ বাউরির স্থাবর সম্পত্তি ৩০ হাজার ৩১১ টাকা। মনোনয়ন দাখিল করার সময় চন্দনা বাউরি তাঁর হলফনামায় জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখন মাত্র ৬ হাজার ৩৩৫ টাকা আছে। আর শ্রাবণের অ্যাকাউন্টে আছে ১ হাজার ৫৬১ টাকা। চন্দনা ও শ্রাবণের নিজেদের জমি বলতে কিছু নেই। পেশায় দিনমজুর শ্রাবণের সংসার চলে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। কাজ থাকলে দিনে ৪০০ টাকা উপার্জন করেন তিনি। তবে বর্ষা এলে সেই কাজও থাকে না বললেই চলে।

চন্দনা বাউরি বেশিদূর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি। পড়েছেন ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত। আর স্বামী শ্রাবণ অতদুরও যেতে পারেননি। ক্লাস এইটের পর তাঁর পড়া বন্ধ। সম্পত্তি বলতে আছে ৩ টি ছাগল, ৩ টি গরু, এর মধ্যে একটি আবার বিয়েতে যৌতুক হিসেবে পাওয়া। আর ‘সবেধন নীলমণি’ মাথার উপর ছাদ বলতে একটি ঝুপড়ি ঘর। তবে, সুস্থভাবে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই নেই চন্দনাদের। পানীয় জল নেই। বাড়িতে নিজস্ব শৌচাগারও নেই। চারপেয়ে প্রাণী গরু-ছাগলদের সঙ্গে এক ঘরেই বাস চন্দনাদের। হলফনামার বিচারে এই চন্দনা বাউরিই বিজেপির সবথেকে দরিদ্র প্রার্থী।

উল্লেখ্য, বাঁকুড়ার শালতোড়া আসনটি এ’বছর তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত। আর সেই আসন থেকেই এবারের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন চন্দনা বাউরি। তবে, বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর সেই খবর চন্দনার কাছে এসে পৌঁছয় অনেক দেরিতেই। টিভিতে খবর শুনে প্রতিবেশীরাই চন্দনাকে জানান যে, তিনিই এবার শালতোড়া কেন্দ্রে বিজেপির মুখ।

বিজেপির দরিদ্রতম প্রার্থী চন্দনা অবশ্য নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। চন্দনা তাই বাড়ির নিত্য কাজ সেরে বেরিয়ে পড়ছেন নির্বাচনী প্রচারে। সকালে ঘুম থকে উঠে, বাড়ির সমস্ত কাজ সমাধা করে, সন্তানদের বৃদ্ধ শাশুড়ির হেফাজতে রেখে, নিশ্চিন্তে হাসিমুখে প্রচারে যাচ্ছেন চন্দনা। এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনা বিচলিত করে চন্দনাকে। তাঁর বিশ্বাস, বিজেপি এলে এসব বন্ধ হবে। তাঁর মতে, বিজেপি মহিলাবান্ধব রাজনৈতিক দল। নারীদের জীবন আরও সুরক্ষিত হবে। চন্দনা জানিয়েছেন, বিধায়ক হয়ে গরিবদের পাশে দাঁড়াবেন তিনি। তাঁদের উন্নয়নই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

আরও এক স্বপ্ন বুকে নিয়ে বেড়াচ্ছেন শালতোড়ার বিজেপি প্রার্থী তথা তিন সন্তানের জননী চন্দনা, আর তা হল, তাঁর সন্তানরা যেন পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে পারে আগামী দিনে। যা তিনি পারেননি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.