চার বাড়ির পরিচারিকা! চেয়ে নিলেন ছুটি, বিজেপির হয়ে কোন কেন্দ্রে লড়ছেন এই প্রার্থী

চার বাড়ির পরিচারিকা চেয়ে নিলেন ছুটি, বিজেপির হয়ে কোন কেন্দ্রে লড়ছেন এই প্রার্থী
চার বাড়ির পরিচারিকা! চেয়ে নিলেন ছুটি, বিজেপির হয়ে কোন কেন্দ্রে লড়ছেন এই প্রার্থী / Image Source- Facebook Post By @Kalita Maji

তিনি নিজে অর্থের অভাবে পড়াশোনা করতে পারেননি। কিন্তু ভোটে জিতলে চান গরীব ছাত্র দের পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে। এই গল্প বর্ধমান গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মাঝপাড়ার বাসিন্দা কলিতা মাঝির। নিত্য সঙ্গী অভাবের কলিতা মাজিকে এবার পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে(তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন) বিজেপি প্রার্থী করেছে। আর তাতেই দিন ফিরবে বলে আশাবাদী তিনি।

সাত বোন এক ভাইয়ের সংসারে ছোট থেকেই অভাব আর দারিদ্রতা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। বাবা ছিলেন দিন মজুর। রোজের খাবার জোটানো যেখানে চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল সেখানে পড়াশোনা ছিল বিলাসিতা। তাই সেই বিলাসিতাকে ত্যাগ করেই বেড়ে উঠতে হয়েছে কলিতা কে।

এরপরেই পাইপলাইনের মিস্ত্রি সুব্রত মাজির সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। কিন্তু সেখানেও অভাব পিছু ছারে না। বাধ্য হয়েই তিনটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ নেন বছর ৩২ এর এই মহিলা। এর মধ্যেই একরাশ স্বপ্ন নিয়ে বড় করতে শুরু করেন অষ্টম শ্রেণীতে পড়া নিজের ছেলেকে।

এবারের একুশের নির্বাচনে গেরুয়া শিবির তাঁকে টিকিট দিয়েছে। নাম ঘোষণার পরেই বিজেপি প্রার্থী চলে আসেন স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের কর্মীরা। এদিকে নাম ঘোষণার পরেই অবশ্য তিনি গৃহস্থবাড়িতে বলে এসেছেন, “আমাকে মাস দেড়েক ছুটি দিন। ভোটের জন্য ব্যস্ত থাকতে হবে যে।”

বিজেপির আউশগ্রাম বিধানসভা এলাকায় বিজেপির সহ-আহ্বায়ক চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের দল গরিব মানুষের স্বার্থে লড়াই করে। একজন সামান্য পরিচারিকাকে প্রার্থী করে দল সেটা বুঝিয়ে দিল। আমাদের প্রার্থীই জয়ী হবেন। এটা আমরা নিশ্চিত।”

দিন বদলানোর স্বপ্ন দেখা কলিতা মাজি জানাচ্ছেন, “টাকার অভাবে পড়াশোনা বেশি দূর করতে পারিনি। এই আপশোস সারাজীবন থাকবে। তবে ভোটে জিতলে আমি গরিব ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। দারিদ্র্যের যন্ত্রণা আমি বুঝি।”

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.