বঙ্গে বিজেপির হার নিয়ে তারকা প্রার্থী এবং দলের নেতৃত্বকে বেনজির আক্রমণ তথাগত রায়ের, তুঙ্গে বিতর্ক

বঙ্গে বিজেপির হার নিয়ে তারকা প্রার্থী এবং দলের নেতৃত্বকে বেনজির আক্রমণ তথাগত রায়ের, তুঙ্গে বিতর্ক
বঙ্গে বিজেপির হার নিয়ে তারকা প্রার্থী এবং দলের নেতৃত্বকে বেনজির আক্রমণ তথাগত রায়ের, তুঙ্গে বিতর্ক

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার শাসনক্ষমতা দখল করতে সব শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিজেপি। রাজ্যে এসে লাগাতার প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা। এমনকী, বাদ যাননি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। কিন্তু বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে হাজারও প্রচার, পরিকল্পনা তৈরি করার পরেও তাঁদের উদ্দেশ সফল হয়নি। নির্বাচনে হেরেছে বিজেপি।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে বিজেপির হারের প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে থাকা তাঁর কাছে নতুন কোনও বিষয় নয়। একুশে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হারের পর, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র ভাষায় এবং নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। বিজেপির তারকা প্রার্থীদের হার প্রসঙ্গে তিনি দলের রাজ্য নেতৃত্বের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রশ্ন তুলে টুইটও করেছেন।

একুশের ভোটে ২০০-র বেশি আসনে জিতে ফের ক্ষমতায় ফিরছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে বাংলার ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বহু তারকাকে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়। কিন্তু তাঁদের ক্যারিশ্মা কাজে আসেনি। বিজেপির তারকা প্রার্থীদের হার হয়েছে। বেহালা পূর্বে অভিনেত্রী পায়েল সরকার, বেহালা পশ্চিমে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, বরানগরে পার্নো মিত্রদের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। আর এই হারের জন্য রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত। এখানেই শেষ নয়, তিনি এই তারকা প্রার্থীদের ‘নগরীর নটী’ বলেও চিহ্নিত করেছেন। তিনি টুইট করে নিখেছেন যে, ‘‘পায়েল শ্রাবন্তী পার্নো ইত্যাদি ‘নগরীর নটীরা’ নির্বাচনের টাকা নিয়ে কেলি করে বেড়িয়েছেন আর মদন মিত্রর সঙ্গে নৌকাবিলাসে গিয়ে সেলফি তুলেছেন (এবং হেরে ভূত হয়েছেন) তাঁদেরকে টিকিট দিয়েছিল কে ? কেনই বা দিয়েছিল? দিলীপ-কৈলাশ-শিবপ্রকাশ-অরবিন্দ প্রভুরা একটু আলোকপাত করবেন কি?’’

ওই অনুষ্ঠানে পার্নো মিত্র ছিলেন না। তা সংশোধন করে পরে আরও একটি টুইট করেন তথাগত রায়। সেখানে তিনি লিখেছন, ‘মদন মিত্রর সঙ্গে সেলফি তুলেছিলেন পার্নো মিত্র নয় তনুশ্রী চক্রবর্তী’।

উল্লেখ্য, যে ঘটনার কথা টুইটে উল্লেখ করেছেন তথাগত সেটি দোলের সময়ের ঘটনা। একটি সংবাদ চ্যানেলের তরফে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন শ্রাবন্তী, পায়েল, তনুশ্রীর মতো বিজেপির তারকা প্রার্থীরা। সেই অনুষ্ঠানে মদন মিত্রদের জন্য ‘খেলা হবে’ গানটি যেমন বেজেছে, তেমনই শ্রাবন্তীদের জন্য বেজেছে ‘রং দে তু মোহে গেরুয়া’। সঙ্গে বেজেছে মদন মিত্রের নিজের লেখা ‘মোদী-শাহ কুমড়োর ঘ্যাঁট খা’। এই অনুষ্ঠানের ছবি পরে ছড়িয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। দলের নেতৃত্বের সমালোচনার মুখে পড়ে, কার্যত ক্ষমাও চেয়েছিলেন বেহালার পূর্ব-পশ্চিমের দুই প্রার্থী পায়েল সরকার এবং শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের যুক্তি ছিল, অনুষ্ঠানে কোনও রাজনীতির রং ছিল না, এটা ছিল নেহাতই রঙের উৎসব।

তথাগতর এই টুইটে কতোটা শ্লেষ তা বুঝতে বাকি নেই বিজেপির রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বের। অন্যদিকে, তারকা প্রার্থীদের ‘নগরীর নটী’ হিসেবে চিহ্নিত করা নিয়ে স্বভাবতই সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে এই টুইটকে ঘিরে।

এটা প্রথমবার নয়, এর আগে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়নী ঘোষকে নিয়ে তথাগত রায়ের নানাবিধ আপত্তিকর মন্তব্যে উভয়ের টুইটযুদ্ধ বেঁধেছিল। তা নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। আর এবারের এই টুইটে তারকা প্রার্থীদের কেন্দ্র করে বিজেপির হারের দায় দলীয় নেতৃত্বের উপর চাপিয়ে, ফের নয়া বিতর্ক উসকে দিলেন তথাগত রায়। আর এই বিতর্কও বহুদিন চলবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহালমহল।