মমতার দিল্লি সফরের সময়েই রাজধানীতে শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা বিজেপি বিধায়কদের!

মমতার দিল্লি সফরের সময়েই রাজধানীতে শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা বিজেপি বিধায়কদের!
মমতার দিল্লি সফরের সময়েই রাজধানীতে শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা বিজেপি বিধায়কদের!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ চলতি মাসের শেষেই দিল্লি সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর, এটাই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের সময়েই রাজধানীতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়করা। গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, মূলত মুকুল রায়ের দলত্যাগের ইস্যুকে হাতিয়ার করেই রাজধানীতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে রাজ্য বিজেপি। এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেই, জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্ব বাড়াতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বাংলার বাইরে একাধিক রাজ্যে সংগঠন আরও মজবুত করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। এই পরিস্থিতিতে, দিল্লি সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ২১ জুলাই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সেই মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একগুচ্ছ কর্মসূচির ঘোষণা করতে চলেছেন। এর মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে ভিন রাজ্যে সফরের কর্মসূচি। তেমনই থাকছে দিল্লি সফরের সময়সূচীও। ঘনিষ্ঠমহল সূত্রের খবর, দিল্লিতে বাদল অধিবেশন চলাকালীনই চলতি মাসের শেষের দিকে দিল্লি যেতে পারেন।

তৃতীয়বারের জন্য বাংলার শাসনক্ষমতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর এই দিল্লি সফর ঘিরে এই মুহূর্তে জল্পনা তুঙ্গে। সূত্রের খবর দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী টানা ১ সপ্তাহ থাকতে পারেন। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৯ তারিখ সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আর প্রতিবারই অধিবেশন চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে যান। দলের সাংসদদের তিনি যেমন নেতৃত্ব দেন, তেমনই দীর্ঘদিন নিজে সাংসদ থাকার দরুন, রাজধানীতে রাজনৈতিক মহলে তাঁর যে বিরাট পরিচিত রয়েছে, তাঁদের সঙ্গেও তিনি জনসংযোগ করেন। সব মিলিয়েই এবার তাঁর দিল্লি যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লিতে যাওয়ার পর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও রয়েছে। রয়েছে সংসদে যাওয়ার খবরও। সেই সময়ই সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য বিজেপির। লক্ষ্য সংসদের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে ও অস্বস্তিতে ফেলা। তবে, এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য কবে নাগাদ দিল্লি যাবেন শুভেন্দুরা, তা এখনও ঠিক হয়নি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করে তাঁর বিধায়কপদ বাতিলের জন্য ইতিমধ্যেই বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মুকুল রায়কে অনৈতিকভাবে পিএসি চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে। মুকুলের সদস্যপদ বাতিল নিয়ে, আজ থেকে বিধানসভায় শুনানি শুরু হলেও, তাতে আস্থা নেই বিরোধী দলনেতার৷ ফলে হাইকোর্টে মামলা দায়েরর পাশাপাশি মুকুল রায় ইস্যুকে এবার দিল্লি পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি।

সূত্রের খবর, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই, বিধায়কদের নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে মুকুল রায় ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী৷ এর পাশাপাশি বিষয়টি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের নজরে আনতে, সংসদের বাইরেও বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে গেরুয়া শিবির৷ এই ইস্যুকে সামনে রেখেই একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর দিল্লি সফরের মাঝে অস্বস্তিতে ফেলা যাবে, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসকেও এই বিষয়ে চাপে ফেলা যাবে। আবার রাজ্য বিজেপি সূত্রে এও জানা গিয়েছে যে, প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে অগাস্ট মাসে দিল্লিতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাবেন রাজ্যের বিজেপি বিধায়করা৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দিল্লি সফরের কথা সামনে আসার পরই সাততাড়াতাড়ি নতুন পরিকল্পনা করেন শুভেন্দুরা৷

এমনিতেই ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে, কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অ-বিজেপি শক্তিগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় ফেরার পর, এমনিতেই অবিজেপি নেতৃত্বের কাছে নেত্রীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। দেশব্যাপী বিজেপির বিরুদ্ধে অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, এই দিল্লি সফরেও এবার সেখানকার অবিজেপি নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি দিল্লিতে আন্দোলনরত কৃষক নেতাদের সঙ্গেও কথা বলবেন। জানা গিয়েছে, কবে যাবেন নেত্রী, তা তিনি নিজেই ঘোষণা করবেন ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে। সংসদে অধিবেশন চলাকালীন তাঁর দিল্লি সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফরের সিদ্ধান্ত যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই। আর ঠিক সেই সময় বঙ্গ বিজেপির সদস্যরা দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি করলে, জাতীয় সংবাদমাধ্যমের নজরও সেই দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি রাজ্য বিজেপিও।