ডিসেম্বরেই বাংলা সফরে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী! জোরালো হচ্ছে বর্ষীয়ান বিজেপি সাংসদের দলবদলের জল্পনা

ডিসেম্বরেই বাংলা সফরে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী! জোরালো হচ্ছে বর্ষীয়ান বিজেপি সাংসদের দলবদলের জল্পনা
ডিসেম্বরেই বাংলা সফরে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী! জোরালো হচ্ছে বর্ষীয়ান বিজেপি সাংসদের দলবদলের জল্পনা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বুধবার দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এবং মমতার এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বুধবার সাড়ে তিনটে নাগাদ দিল্লিতে মমতার ১৮৩ নম্বর সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে আসেন স্বামী। প্রায় মিনিট ৪৫ মমতার সঙ্গে বৈঠক করেন স্বামী।

বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বামী বলেন যে, ‘আমি মমতার পাশেই আছি। আলাদা করে দলবদলের কোনও প্রয়োজন নেই।‘ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যে জল্পনা আরও গাঢ় হয়েছে। তাহলে কি নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের উপর ক্ষোভ বাড়ছে প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর? এই প্রশ্নই এখন উঠছে রাজনীতির অন্দরমহলে। এদিকে এই পরিস্থিতিতে জানা গিয়েছে যে, আগামী মাসে বাংলায় আসছেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। বৃহস্পতিবার এই কথা তিনি নিজেই টুইট করে জানিয়েছেন।  বুধবারের সাক্ষাতের পর এই ঘোষণায় তাঁর দলবদলের জল্পনা আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর সঙ্গে থাকবেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি দল।

উল্লেখ্য, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির অভিযোগ এনে বারবার সরব হয়েছে বিজেপি। এমনকী, এ রাজ্যে হিন্দুরা কোণঠাসা বলেও দাবি করেছেন গেরুয়া শিবিরের একাধিক নেতা। তাঁদের সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন খোদ বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তাঁর দাবি, সেই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এ রাজ্যের আসবেন তিনি। তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলবেন। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘তিন বছর আগে তারকেশ্বর মন্দির ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদার্থক প্রতিক্রিয়া এখনও আমার মনে আছে।’

দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পরই টুইটারে তৃণমূল নেত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন বিজেপির ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদ। রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এর আগে বারবার বিভিন্ন বিষয়ে মোদী সরকারের সমালোচনা করে খবরের শিরোনামে এসেছেন। সম্প্রতি জাতীয় কার্যকারিণী সমিতি থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে রোমে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেতে বাধা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের সমালোচনা করেন স্বামী। আগেও অনেকবার তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে স্বামীকে।

শুরুটা একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নন্দীগ্রামে পায়ে চোট পেয়েছিলেন মমতা। সেই সময় টুইট করে মমতার সুস্থতা কামনা করেন স্বামী। ২০২০ সালে স্বামী মমতার রাজনীতির সমালোচনা করা একটি টুইটের প্রত্যুত্তরে লিখেছিলেন, ‘আমার মতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন পাক্কা হিন্দু এবং দুর্গাভক্ত। পরিস্থিতি অনুযায়ী মমতা ব্যবস্থা নেয়। তাঁর রাজনীতি আলাদা।’ বিজেপি সাংসদ মমতার প্রশংসা করলেও, তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথাও বলতেন। এবার সরাসরি তিনি মমতার পাশে রয়েছেন বলে জানালেন। আর সেখান থেকেই বাড়ছে জল্পনা।