‘পুলিশের উচিত লখিমপুর কাণ্ডে গাড়ির মালিককে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা’, টুইট করে বললেন বরুণ গান্ধী

‘পুলিশের উচিত লখিমপুর কাণ্ডে গাড়ির মালিককে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা’, টুইট করে বললেন বরুণ গান্ধী
‘পুলিশের উচিত লখিমপুর কাণ্ডে গাড়ির মালিককে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা’, টুইট করে বললেন বরুণ গান্ধী

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ লখিমপুর কাণ্ডে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চুপ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চুপ রয়েছেন, এমনকি কোনও বিজেপি নেতাই মুখ খুলতে চাইছেন না। সেই সময় লখিমপুর কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা বরুণ গান্ধী।

তিনি বিজেপির সাংসদ। কিন্তু সেই তিনিই বিজেপি সাংসদ হয়েও, বিজেপি নেতৃত্বের পথ অনুসরণ না করে, লখিমপুর কাণ্ড নিয়ে অন্য রাস্তায় হাঁটলেন। দলের অন্যান্য নেতা তথা সাংসদরা যেখানে লখিমপুরের ঘটনার সাফাই দিতে ব্যস্ত, সেখানে বরুণ গান্ধী প্রতিবাদে সরব হলেন। দাবী জানালেন, লখিমপুরে যে গাড়ি দিয়ে কৃষকদের পিষে দেওয়া হয়েছে, সেই গাড়ির মালিককে গ্রেফতার করার জন্য।

উল্লেখ্য, রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয়। এরপরেই এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে লখিমপুর খেরি। অশান্তির মাঝে পড়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা লখিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু প্রায় সকলকেই আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রায় ৩০ ঘন্টার বেশি সময় সীতাপুরে আটক করে রাখার পর, ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে আজ গ্রেফতার করা হয়। কংগ্রেস নেতা বাঘেলকে বিমানবন্দরেই আটকে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সপা নেতা অখিলেশ যাদবকেও। এদিকে, আজই লখিমপুরে নিহত কৃষকদের পরিবারের কাছে পৌঁছালেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। দেখা করলেন শোকগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা ক্রমাগত নানাভাবে এই ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করে চলেছেন। আবার শীর্ষস্তরের বিজেপি নেতারা এ নিয়ে সম্পূর্ণ চুপ। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে নীরবতা ভেঙেছেন বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী। লখিমপুরের ওই ঘটনার ভিভিও টুইট করে তিনি বলছেন, ‘লখিমপুর খেরিতে যেভাবে কৃষকদের ইচ্ছাকৃতভাবে পিষে দেওয়া হল, সেটা যে কোনও ব্যক্তির আত্মায় আঘাত করতে বাধ্য। পুলিশের উচিত এই ভিডিওটি দেখে গাড়ির মালিকদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা।’ এখানেই শেষ নয়, লখিমপুর কাণ্ড নিয়ে যোগী সরকারকে একাধিক চিঠিও লিখেছেন বরুণ। যাতে সরকার তথা পুলিশ প্রশাসনকে রীতিমতো একহাত নিয়েছেন তিনি। এমনটাই সূত্রের খবর। তিনি অন্য একটি টুইটে নিহত কৃষকদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়ে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে বিজেপির সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন বরুণ গান্ধী। সম্প্রতি গান্ধী জয়ন্তীতেও ‘গডসে জিন্দাবাদ’ বলার জন্য তথাকথিত হিন্দুত্ববাদীদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। এরপর এবার লখিমপুর কাণ্ডে সরব হলেন তিনি। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং অবশ্যই বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলতে যথেষ্ট।