‘বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে’! হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের

‘বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে’! হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের
‘বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে’! হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ রাজ্যে শুরু হয়ে গেছে ভোট যুদ্ধ। সম্পন্ন হয়েছে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দফার ভোট প্রক্রিয়া। বাকি রইলো আর ৫ দফার ভোট। রাজ্যের শাসক দলে কে আধিপত্ত বিস্তার করবে তা নিয়ে চলছে রাজনৈতিক বিরোধ। অন্যদিকে নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। গতকাল চতুর্থ দফার ভোটে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অশান্তি এবং রক্তপাতের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তারমধ্যে অন্যতম শীতলকুচির মর্মান্তিক ঘটনা। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আর এরই মাঝে এদিন বরানগরের প্রচার সভা থেকে হুঙ্কার দিলেন দিলীপ ঘোষ। বললেন, ‘বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে’! তাঁর এহেন মন্তব্যে তীব্র নিন্দা জানাল তৃনমুল-কংগ্রেস, সিপিএপ সহ রাজনৈতিক মহল।

প্রসঙ্গত গতকালের চতুর্থ দফার ভোটে সবথেকে মর্মান্তিক ঘটনা হল কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জন যুবকের মৃত্যু। বিনা প্ররোচনায় গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় মৃত সকলেই তাঁদের দলের সক্রিয় কর্মী। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার কথা স্বীকার করে বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতেই ওই যুবকদের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েকজন।

তবে এরই সাথে নির্বাচন কমিশন জানান, জওয়ানরা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছিলেন। তারই সাথে গতকাল রাতে নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানিয়ে দেয়, কোচবিহারে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হয়ে গেছে। আগামী ৭২ ঘন্টা ওই জেলার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে জাতীয় বা আঞ্চলিক বা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। আর সেকারণেই সেখানে যেতে না পেরে আজ মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়ির সাংবাদিক বৈঠক থেকে কালো পোষাকে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এরই সঙ্গে ভিডিও কলে নিহতদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সবরকম দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ বরানগরের প্রচার সভা থেকে বলেন, বাংলায় কোনও দুষ্টু থাকবে না, শীতলকুচিতে যারা দুষ্টু ছিল সেই ছেলেরাই গুলি খেয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া তিনি সকলকে ভোট দিতে যাওয়ার কথাও বলে। সঙ্গে বলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী বন্দুক হাতে এখানে ঘোরার জন্য আসে নি। তাই বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে। দিলীপ ঘোষের এহেন মন্তব্যে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় সহ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও। উল্লেখ্য এবিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলেন, এই মন্তব্যে দ্বারা বিজেপির মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানান, এরূপ মন্তব্য করে মানুষের রোজকার সমস্যার বিষয়গুলি থেকে নজর সরানোর চেষ্টা করছেন। বিভাজনের কৌশল বলে মনে করছেন সিপিএম নেতা।