অভিষেক-শুভ্রাংশুর সাক্ষাৎ নিয়ে কী বলছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ?

অভিষেক-শুভ্রাংশুর সাক্ষাৎ নিয়ে কী বলছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ?
অভিষেক-শুভ্রাংশুর সাক্ষাৎ নিয়ে কী বলছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একজন তৃণমূলের আর একজন বিজেপিতে। একজন যুব তৃণমূল সভাপতি আর একজন বিজেপির নেতা। যদিও, একসময় দুজনেই একই দলের যোদ্ধা ছিলেন। তবে এখন রাজনৈতিকভাবে দু’জনের পথ আলাদা।

এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতির সবথেকে বড় আলোচিত বিষয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের সাক্ষাৎ। রাজ্য-রাজনীতির হটকেক একেবারে। এই দু’জনের সাক্ষাৎ ঘিরে ইতিমধ্যেই বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। আর শুধু আলোচনাই নয়, এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে নানা গুঞ্জনও উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। বিজেপির অন্দরেও যা নিয়ে চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সূত্রের এও খবর, এই দুজনের সাক্ষাৎ নিয়ে চিন্তায় রয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

এহেন পরিস্থিতিতে অবশেষে মুখ খুললেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আর দিলীপ ঘোষের এই বিষয়কে কেন্দ্র করে মন্তব্য এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে পুরো বিষয়টিতে।

আসলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে, বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মুকুলপত্নী কৃষ্ণা রায়। মঙ্গলবার সন্ধেয় তাঁকে দেখতেই হাসপাতালে যান যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পুরনো সহকর্মীর ব্যবহারে রীতিমতো ‘আপ্লুত’ মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু। এই দুঃসময়ে পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই সাততাড়াতাড়ি হাসপাতালে পৌঁছে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যদিও তাঁর সঙ্গে বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশুর সাক্ষাৎ হয়নি বলেই সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, অভিষেক এবং শুভ্রাংশু সাক্ষাতের পরে সাততাড়াতাড়ি দিলীপ ঘোষের হাসপাতালে যাওয়া, অনেকেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলের’ প্রয়াস বলেই মনে করছেন।

 

এদিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন যে, ‘মুকুল রায়ের স্ত্রীর চিকিৎসা চলছে। এই পরিস্থিতিতে রোগীর আত্মীয়দের মনোবল বাড়ানো দরকার। পরস্পরের পাশে থেকে, সহযোগিতা করা উচিত।’

আবার অন্যদিকে বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশুর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষা নিয়ে দিলীপ ঘোষ কী ভাবছেন জানতে চাওয়া হলে, তিনি উত্তরে সাংবাদিকদের বলেন যে, ‘সংকটের সময় সব ভুলে একসঙ্গে আসাই ভালো। কষ্টের সময় একসঙ্গে থাকা উচিত। তাছাড়া পূর্ব পরিচিত, দেখা করতেই পারেন।’

তবে, সাম্প্রতিকের কিছু ঘটনা কিন্তু অন্য কথা বলছে। বিগত ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি মুকুল রায়ের স্ত্রী। কিন্তু এই ক’দিনের মধ্যে হাসপাতাল চত্বরে বিজেপির একজন নেতাকেও দেখা যায়নি। মঙ্গলবার অভিষেকের যাওয়ার পরই হাসপাতালে দেখা করতে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে মুকুল রায়ের স্ত্রীর শারীরিক অবস্থাও জটিল। রয়েছেন একমো সাপোর্টে।

হাসপাতালে গেলেও, মুকুল রায় বা শুভ্রাংশু কারোর সঙ্গেই দেখা হয়নি দিলীপবাবুর। এর সঙ্গে কিছুদিন আগে মুকুলপুত্র শুভ্রাংশুর ফেসবুক পোস্ট বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে কারও নাম না করে তিনি লিখেছিলেন, ‘জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করার আগে আত্মসমালোচনা করা বেশি প্রয়োজন।’ এদিকে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা অনুযায়ী, ভোটে হারের পর থেকেই, মুকুল পুত্রের সঙ্গে বিজেপির দুরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এবার কি তাহলে সেই দুরত্ব ঘোচাতে আসরে নামলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি? সময়ের হাত ধরেই মিলবে এই প্রশ্নেরও উত্তর।